নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার এ ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছে। সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকসুর সাবেক ভিপি, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
রেডিও তেহরানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মান্না বলেন, সরকার দেশ, জনগণ এবং আইনের তোয়াক্কা করছে না বলেই দেশে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে ।দেশে গুম-খুন-অপহরণের দায় সরকারের।
দেশ এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এদেশে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। একটি দেশে এর চেয়ে বড় ইমেজ ক্রাইসেস আর কি হতে পারে!
পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো
[b]প্রশ্ন:[/b] নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা এবং র্যাব-১১’র সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ র্যাবের তিন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপকে কি আপনি যথেষ্ট মনে করেন?
[b]মাহমুদুর রহমান মান্না:[/b] নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের মামলায় সরকারের পদক্ষেপ নিশ্চয়ই যথেষ্ট ছিল না। আর যদি সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট থাকত তাহলে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়ার দরকার পড়ত না। নিহত হওয়া প্যানেল মেয়র নজরুলের শ্বশুর স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন র্যা।বের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। আর নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার সত্যাসত্যসহ নানা বিষয়ে সবচেয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করেন নজরুলের শ্বশুর। অথচ সরকার তার বক্তব্য শোনেননি। সরকার প্রথম দিকে র্যা বের কর্নেলকে আবার সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে দিয়েছিল। পরে সবার চাপে হোক, ফাইন্ডিংস'র কারণে বা যে কোনো কারণে হোক বলা হলো যে প্রাথমিক তদন্তে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ফলে তাদের অকালীন অবসরে পাঠানো হয়। পরে যখন গণদাবি উঠে তখন সরকার নিজে করেনি; হাইকোর্ট তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় এটা বোঝা যাচ্ছে সরকার দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছে। সরকারের অবস্থান এ ব্যাপারে স্পষ্ট নয়।
[b]প্রশ্ন:[/b] নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেক মন্ত্রী বিএনপিকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ এখন বের হচ্ছে ভিন্ন ঘটনা। প্রশ্ন হচ্ছে- এই দোষারোপে সরকার কি ক্ষতিগ্রস্ত হলো না?
[b]মান্না:[/b] কথায় আছে না কারো এক কান কাটা গেলে সে রাস্তার একপাশ দিয়ে হাঁটে। আর দুই কান কাটা গেলে সে রাস্তার মাঝ দিয়ে হাঁটে। বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে এবং যেভাবে তারা ক্ষমতা নিয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট যে সরকার জনগণের মতামত বা আইনের তোয়াক্কা তখন থেকে করছে না। সরকার বর্তমানেও জনগণ ও আইনের তোয়াক্কা করছে না বলেই এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনায় এরকমটি করতে পেরেছে।
হঠাৎ করে পহেলা মে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিলেন তা যে রাজনৈতিক বক্তব্য সেটি বুঝতে কারো কোনো অসুবিধা হয়নি। বিএনপি নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় জড়িত আছে এটি কোনো মানুষের মুখ থেকে আসেনি। ওখানকার হত্যাকাণ্ডসহ যা ঘটেছে তা আওয়ামী লীগের দুটো গ্রুপের মধ্যে ঘটেছে। আর এ দুটো গ্রুপ মানে আইভি আর শামীম ওসমান না, দুটো গ্রুপই শামীম ওসমানের। এটা খুবই স্পষ্ট যে ঘটনাটির সাথে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিষয় জড়িত। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটিকে বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে সবাই জানে বিএনপির ওপর দোষারোপের চেষ্টা চালানো হলেও আসলে এর সাথে সত্যাসত্য নেই। এতে একটি বিষয় স্পস্ট হলো যে খুব নগ্নভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে মিথ্যাচার করা হচ্ছে আর সেটি একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে নিয়ে। এতে নিশ্চিতভাবে সরকারের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি কমে গেল। তবে সরকারের প্রতি যে মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি আগেও ছিল একথা বলা যাবে না।
[b]প্রশ্ন:[/b] নারায়ণগঞ্জের মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের পরিবার বলেছে- র্যা ব ৬ কোটি টাকা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি র্যা ব বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। এলিট এই বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে বিএনপির দাবি কতটা যৌক্তিক?
[b]মান্না: [/b]ডাইরেক্টলি র্যাবকে বন্ধ করে দেয়ার কথা বিএনপি বলেছে এমনটি বোধহয় আমি দেখি নি। বিএনপি বলেছে- র্যা বের সামগ্রিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে তাদেরকে বন্ধ করে দেয়া হবে কিনা এমনটি ভাবার সময় এসেছে। দেখুন আমাদের দেশের একটি দুর্ভাগ্য কি জানেন- যেরকম সরকার তেমনি বিরোধী দল। উভয় দলই একইরকম। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ দুটো রাজনৈতিক দলই একই আচরণ করে। বিরোধী দলে গেলেও একই আচরণ করে। কোনটা আওয়ামী লীগ ও কোনটা বিএনপি সেটা চেনা মুশকিল। শুধু চেনা যাবে বিরোধী দল হিসেবে।
আজকে র্যাবকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে, এই র্যাবকে তৈরি করেছিল বিএনপি। এদেরকে ইনডেমনিটি দিয়েছিল বিএনপি। ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন সে একটা ট্রাকের হেলপার ছিল । জাতীয় পার্টি দিয়ে তার কেরিয়ার শুরু হয়, বিএনপিতে এসে তার কেরিয়ার সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছে- আর আওয়ামী লীগে এসে ম্যাচিউর করেছে। দলগুলো কখনো ভাবে না যে তাদের ভুলের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শুরু হয়েছিল বিএনপির আমলে। তারা র্যাাবের দ্বারা একাজ শুরু করেছিল। আজকে তারা র্যাব সম্পর্কে মূল্যায়ন করছে। র্যাব আসলে কি? র্যাবকে মাঝে মাঝে এলিট ফোর্স বলা হয়। র্যাবের মধ্যে আর্মি, এয়ারফোর্স, নৌবাহিনী,বিজিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ও আনসারও আছে। আর কম্বাইন্ড এই ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশের আইজির নেতৃত্বে চলছে র্যাব। ফলে এটাকে কি এলিট ফোর্স বলা যাবে! দেশের এলিট ফোর্সের কাছে মানুষ গিয়ে তাদের সেলফোন চুরির অভিযোগ করতে পারে না। জমি জমার মামলা দিতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটছে। মানুষ র্যানবের কাছে গিয়ে এসব অভিযোগ করছে এবং তারা এসব উদ্ধার করে দিচ্ছে। তারা বেশিরভাগ সময় পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে। ফলে আসলে র্যাবের ব্যাপারটি ডিফাইন করা দরকার। এলিট ফোর্স অনেক জায়গায় কাজে লাগে। তবে এলিট ফোর্স থাকবে এলিট ফোর্সের মতো। এলিট ফোর্সকে দিয়ে দলবাজি করানো হবে, তাকে নিজ দলের স্বার্থ উদ্ধারে অমানবিক হত্যাকাণ্ড এবং বর্বরোচিত ঘটনা ঘটানো হবে। এরকম যদি হয় তাহলে তো মানুষ র্যাবকে ব্যাণ্ড করতে বলবেই। তবে প্রথমে ঠিক করতে হবে আসলে এলিট ফোর্স হিসেবে আমরা কি চাই। আর তার ভিত্তিতে র্যাবকে বাতিল করা যেতে পারে আবার পুনর্গঠণ করা যেতে পারে।
তবে মূলকথা হচ্ছে এইসব ঘটনার জন্য র্যােবকে আলাদা করে দেখার চেয়ে বরং এভাবে দেখা যেতে পারে যে, সরকার নিজেদের রাজনীতির অপকর্মের জন্য অথবা নিজেদের রাজনীতিকে স্টাবলিশ করতে এসব করছে। লক্ষ্মীপুরের ক্রসফায়ারগুলো র্যাবের এই টিম-ই করেছে। আর সেটা সম্পূর্ণভাবে বিরোধী দল দমনের জন্য করেছে। এজন্য আগে সরকারকে এবং পার্টিগুলোকে জনগণের বা সিভিল সোসাইটির মত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আসলে আমরা কোনটা চাই। তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
[b]প্রশ্ন:[/b] নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডের পর সেখানকার সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি ওসমান পরিবারকে দায়ী করে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। আপনার কি মনে হয় সঠিক বিচার হবে এই হত্যাকাণ্ডের?
[b]মান্না:[/b] দেখুন নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনার সত্য উদঘাটন, আসামীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা এবং শাস্তি প্রদানের যে উদ্যোগ নেয়া দরকার ছিল, সরকার সেভাবে এগোচ্ছে না। অর্থাৎ সরকারের উদ্যোগ সত্যাসত্য উদঘাটনের দিকে যাচ্ছে না। প্রশাসনকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের লোক মন্ত্রীর ব্যাপারে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে পারবে এমনটি ভেবে তো কোনো লাভ নেই। কারণ আমাদের দেশে প্রশাসনে দলীয়করণ হয়েছে। সরকারি বাহিনীগুলোতেও দলীয়করণ হয়েছে। তবে সবার পক্ষ থেকে দাবি হচ্ছে একটি বিচারিক গণকমিশন গঠন করা হোক। যেমনটি হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে - তিন র্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের। সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অথবা গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন হোক এবং তারা হাইকোর্টের মতো কোনো আদেশ দিক। কিন্তু সেদিকে বিষয়টি গেল না। কোর্টও যেকথা বললো তাতে একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে কোনো সত্য বেরিয়ে আসবে না। তবে জনগণ জেগে উঠেছে। এভাবে মানুষ সজাগ থাকলে বিচারকে ব্যহত বা বিভ্রান্ত করা খুব সহজ হবে না।
[b]প্রশ্ন:[/b] ৭ খুনের ঘটনার পর এখন সীমান্তে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- এতদিন পর কেন এ ব্যবস্থা নেয়া হলো? অনেকে বলছেন, অপরাধীদেরকে দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দিতে এতদিন দেরি করা হয়েছে...।
[b]মান্না:[/b] যে প্রশ্নটি করলেন আসলে একথা ওঠা খুবই যুক্তিসংগত। কারণ ২ নম্বর আসামী কোন্ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরে গেছে সেকথাও এখানকার পত্রিকাগুলোতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে। তো চলে যাওয়ার পর রেড এলার্ট জারি করা হলো। আসামী চলে গেল বিমান বন্দর দিয়ে তাকে আটকানো হলো না অথচ সাদেক হোসেন খোকাকে বিমান বন্দরে আটকানো হলো। তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না কারণ তার বিরুদ্ধে মামলা আছে।
তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের ঘটনা ঘটার ১০ মিনিটের মধ্যে সেখানকার তথাকথিত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এমপি শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। রেড এলার্ট তো তারপরই হওয়া উচিত ছিল, এত দেরি হবে কেন? এখন কথা হচ্ছে মূল আসামী নূর হোসেন আছে কি না জানি না। তবে পত্রিকার খবরে এসেছে উনি ভারতে চলে গেছেন। তাছাড়া খুবই ইন্টারেস্টিং অথবা চিন্তার বিষয় যে নজরুলের শ্বশুর বলছেন যেন নূর হোসেনকে ক্রস ফায়ারে না দেয়া হয়। কেন ওনার মনে এমন সন্দেহ হলো! কারণ একজন আসামী জীবিত থাকলে অনেক সত্য বেরিয়ে আসবে যেটা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে সহ্য করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।
[b]প্রশ্ন:[/b] গুম-খুন নিয়ে মন্ত্রিসভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু অনেকেই বলছেন, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যেখানে গুম-খুনের ঘটনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বেগ ও ক্ষোভের কোনো মূল্য নেই। আপনি কি বলবেন?
[b]মান্না:[/b] আমরা বাস্তবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষোভের কোনো মূল্য কিন্তু দেখছি না। বাস্তবতা হচ্ছে যখনই কেউ শুনবে ৭ টি লোক অপহৃত হয়েছে তখনই তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা। সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের স্বামীর ব্যাপারে যেভাবে সরকার তৎপর হলো এক্ষেত্রেও তো সেভাবেই তৎপর হওয়ার কথা ছিল। র্যাবের যে সিও'র নামে এতবড় একটা অভিযোগ উঠল তাকে কিভাবে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা হলো! ডেফিনেটলি তাকে সরকার এ ব্যাপারে দায়ি মনে করেনি বলেই তাকে সেনবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমার কথা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তো নিজেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উনি এ ঘটনাটিকে ওভারলুক করেছেন, খেয়াল করেননি বা ব্যস্ত ছিলেন এরকম যে কথাই বলা হোক না কেন প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে গভীর পর্যবেক্ষণমূলক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে দেখছি না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়া যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী সে কাজটি করেছেন। তার বাইরে তাদের এসব উদ্বেগের মূল্য দেয়ার কোনো কারণ আমি দেখছি না।
[b]প্রশ্ন:[/b] নিশ্চয়ই আপনি লক্ষ্য করেছেন শামীম ওসমান তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন ঘটনা ঘটার দশ মিনিটের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছেন যে কথাটি আপনিও বললেন। তাহলে তো তখনই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার দরকার ছিল- তাই নয় কি!
[b]মান্না:[/b] আপনি ঠিকই বলেছেন। এ প্রশ্ন দেশের সব জায়গায় উঠেছে। মানুষ সেকথা বলছে, ওখানকার লোকেরা সেকথা বলছে। এ ঘটনার কিছুদিন আগে রেজওয়ানা হাসানের স্বামীকে উদ্ধারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতার কথা সবাই বলেছে। পিএম'র অফিস থেকেও সেকথা বলা হয়েছে। তখন তিনি তৎপরতা চালিয়েছিলেন, ফলে এখন একথা যুক্তিসঙ্গতভাবে আসবেই।
[b]প্রশ্ন:[/b] দেশে সম্প্রতি গুম, খুন এবং অপহরণের ঘটনা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এতে রাষ্ট্রের দায় কতটা এবং এ অবস্থা কি সরকারের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে?
[b]মান্না:[/b] দেখুন রাষ্ট্রের দায় ব্যাপক। বিষয়টিকে বিমূর্তভাবে দেখলে হবে না।প্রথম কথা হচ্ছে দায়মুক্তির বিষয়। আর সেটি বঙ্গবন্ধুর বিষয়টি বলেন, অপারেশন ক্লিনহার্ট বলেন অথবা র্যাবকে কয়েক মাসের জন্য দায়মুক্তির প্রসঙ্গে বলেন- এ কাজাটি অত্যন্ত গর্হিত। আমাদের দেশে অপরাধীরা এত শক্তিশালী এত বুদ্ধিমান যে তারা আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ওদেরকে ক্রসফায়ার করে মেরে ফেলতে হবে। দেশের যেকোনো বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। অথচ যারা জানমালের নিরাপত্তার পরিবর্তে মানুষের জান নিয়ে নেবে এটা কোন ধরণের আইন! তারপরও সেই কাজটি হচ্ছে। আর অবশ্যই সেটা রাষ্ট্রের দায়। যখন যেভাবে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে তাদের দায়। এটা সরকারের অস্বীকার করার কোনো উপায় আছে বলে আমি মনে করি না।
এ বিষয়টি সরকারের জন্য নৈতিক একটি চ্যালেঞ্জের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমি বলব সরকার এখানে নৈতিকভাবে পরাস্ত হয়েছে। তাছাড়া আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, বর্তমানে নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সরকার চলছে না। ফলে তাদের কাছে নৈতিকতার মূল্যই বা কি! তবে একথাও সত্য এই সরকার গেলে আবার যে সরকার আসবে তাদের প্রতিও মানুষের আস্থা নেই। ফলে সেই অর্থে আমি বলব শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতির কারণে একটা স্পেস সরকারপক্ষ পাচ্ছে। তবে এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ মানুষ জাগছে। এদেশের নাগরিক সমাজ এখন আন্দোলনে নেমেছে। ফলে এখন নৈতিক এবং বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ তৈরী করেছে সরকারের জন্য।
[b]প্রশ্ন:[/b] নির্বাচন, গুম-খুন-অপহরণসহ নানা বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে এবং বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় নানা কথা উঠেছে। সম্প্রতি ইইউসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সরকারকে একরকম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তো এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে কি না; তাছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
[b]মান্না:[/b] দেখুন সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর ব্যবসাতে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং আমাদের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে তারা এটা স্পষ্টকরে দেখতে পেয়েছে যে আমাদের শ্রমিকদের কোনো নিরাপত্তা এখানে নেই। আর সারাদেশ এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। দেশ এখন মৃত্যুপুরী। এদেশে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। একটি দেশের এর চেয়ে বড় ইমেজ ক্রাইসিস আর কি হতে পারে!
এতবড় একটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি মমত্ববোধের যে জায়গাটি ছিল যা এখনও আছে, তবে সেটি খুব বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। মনে হচ্ছে দানব এখন মানবতাকে গ্রাস করার জায়গায় চলে এসেছে। দেশের মানুষ খুবই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। আর আন্তর্জাতিকভাবেও দেশটি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।আর ব্যবসা বাণিজ্য সব কিছুই বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে গেছে।
[b]ঢাকা, ১৬ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস[/b]
মতামত
দেশ এখন মৃত্যুপুরী, দায় সরকারের: মান্না
নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার এ ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছে। সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকসুর সাবেক ভিপি, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না





