১৯ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস। অসহায় এই দিবসটি হারিয়ে গেছে অনেক তথ্য আর চিন্তার ভিড়ে। যার কারণে কেউ এটা নিয়ে লিখতে বা জানতে চান না। মাঝে মধ্যে মন হয় পুরুষরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিন্তু দেশীয়ভাবে না। তাই এবার পুরুষ দিবসের আবিষ্কার থেকে শুরু করলাম।

এই দিবসের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৬০ এর দশকে। সেই সময়ে নারী দিবসের সঙ্গে সমতা আনতে ২৩ ফেব্রুয়ারিকে পুরুষ দিবস করার উদ্যোগ নিলেও সেটি ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘রেড আর্মি এন্ড নেভি ডে’। পরে এর নামে দেয়া হয় ‘ডিফেন্ডার অব দি ফাদার ল্যান্ড ডে’।

১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি. হ্যারিস সালিনা জার্নালে একটি লেখায় বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন নারী শ্রমিকদের জন্য একটা দিন রাখলেও পুরুষদের জন্য রাখেনি। ষাট থেকে নব্বই দশকের মধ্যে এই ধরনের নানা কথা চালাচালি হলেও সুনির্দিষ্ট দিবস পাওয়া যায়নি।

১৯৯০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মৌসুরী-ক্যানসাস সিটির মৌসুরী সেন্টার ফর মেন’স স্টাডিজের প্রফেসর থমাস ওস্টারের উদ্যোগে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় ফেব্রুয়ারি মাসে পুরুষদের উপলক্ষ্য করে কয়েকটি অনুষ্ঠান হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে নানা কারণে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় তারা।

এরমধ্যে মাল্টায় ২০০৯ সালে ১৯ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর অন্যান্য দেশেও একটি পালিত হয়। মাল্টা এই ধারণা নেয় ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো থেকে।

ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতে ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে দিবসটির উদ্যোগ নেন ইউনির্ভাসিটি অব ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড. জেরোমি তিলকসিংহ। তিনি বলেন, ‘আমি অনূভব করেছি পুরুষদের জন্য কোনো দিবস নেই। কেউ কেউ বলে বাবা দিবস তো রয়েছে। কিন্তু এতে বালক, তরুণ ও যারা বাবা নন তাদের কী হবে?’

তিলকসিংহের নিজের জীবনের আদর্শ ছিলেন তার বাবা। ১৯ নভেম্বর তার বাবার জন্মদিনও বটে। এছাড়া স্থানীয় একটি খেলার দল লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিগত বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এদিনে। পরবর্তীতে দিনটি জাতিসংঘের দাফতরিক সমর্থন পায়।

এই দিনের উল্লেখযোগ্য আয়োজনে থাকে সেমিনার, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বিশেষ কার্যক্রম, রেডিও ও টিভি অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও মার্চ, বির্তক প্রভৃতি। প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে এটি নারী দিবসের বিপরীত কিছু নয়। বরং পুরুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এর মূল লক্ষ্য।

এছাড়া প্রতি বছরে আলাদা আলাদা বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন- ২০০২ সালে শান্তি, ২০০৩ সালে পুরুষদের স্বাস্থ্য বা ২০০৯ সালে ইতিবাচক অনুকরণীয় আদর্শ। প্রতিটি দেশ নিজের স্থানীয় চাহিদার নিরিখে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করতে পারে।

জেড