নবম সংসদে ফেণী অঞ্চলের একজন মহিলা এমপি বলেছিলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চুদুর-বুদুর চইলত না'। তাঁর উচ্চারিত এই শব্দটি নিয়ে তখন এতটুকু হই চই শুরু হয়ে যায় যে তা দেশের সীমানা পেরিয়ে পাশের দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশী দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যে এটি কোন অশ্লীল শব্দ নয়, এটি একটি আঞ্চলিক বা গ্রাম্য শব্দ। তারপরও বিশেষ একটি মহল থেকে 'ছি-ছি-ছি' বর্ষন কমে নি। এদেশের মরাল ব্রিগেইড দাবিদার মহল এখনও সেসবের উদাহরন টেনে নিজেদের বিরক্তি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ করেন।

নিজেকে অত্যন্ত পরহেজগার হিসাবে তুলে ধরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী পবিত্র রমজান মাসে (যে মাসে কটু কথা বলা নিষেধ) তাঁর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘উনার ভাবি, যাঁকে উনি বাড়ি-গাড়ি দিয়েছিলেন, সেই ভাবি উনাকেসহ জাতীয় পার্টির সবাইকে জেলে পুরলেন। এত কবিতা লিখলেন, ভাবীর জন্য একটা কবিতা লিখে মন জয় করতে পারেননি?’
আমাদের সেই মরাল ব্রিগেইড প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তিটি নিয়ে একবারও তাদের স্বভাব সুলভ 'ছি-ছি' উচ্চারন করেন নি। কারণ ভাবিকে নিয়ে এই ধরনের ইঙ্গিতে চুদুরবুদুর শব্দের চেয়েও বেশী অশ্লীল উপাদান বা গ্রাম্যতা ছড়িয়ে আছে। যিনি এই কথাটি বলেছেন এবং যাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন উভয় নারীর জন্যেই বিষয়টি চরম বিব্রতকর ও অবমাননাকর। তিনি নিজে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। যাকে এসব বলেছেন তিনিও তাই ছিলেন। এই ধরনের চটুল, হালকা, অশ্লীল ও গ্রাম্য রসিকতা এই মুখে মানায় না।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার অপশাসন দিয়ে যতগুলি মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন তার চেয়েও অধিক সংখ্যক মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন তাঁর এই ঠোঁটটি দিয়ে। কারন এই বয়সে মানুষকে শেখানোর কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীর ১৯৯৬-২০০১ টার্মে দুয়েকজন মুরব্বী স্থানীয়কে মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিয়েছিলেন। শোনা যায় এদের একজন সাহস করে ঠোঁট নিয়ন্ত্রণের উপদেশ দেওয়ার কারনেই নাকি দফতরবিহীন হয়ে পড়েছিলেন।

কাজেই তাঁকে কিছু পরামর্শ দেয়ার সাহস এখন আর কারও হবে না। সমালোচকদের তিনি শত্রুজ্ঞান করেন। তারপরেও দুয়েকজন মুরব্বী চেষ্টা করেছেন এবং সাথে সাথে 'মুই কার খালু' বা এই কিসিমের গালি খেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন তার কোন প্রতিপক্ষ কিংবা এরূপ অনাকাঙ্খিত পরামর্শকের উপর চড়াও হয়েছেন তখন তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বা চেহারায় একটা বিশেষ আভা উপস্থিত হয় । তিনি নিজে এবং চামচার দল এটাকে দারুনভাবে উপভোগ করেন। ডক্টর ইউনূস ও হিলারীকে তো রীতিমত রাধা-কৃষ্ণ বানিয়ে চামচা পরিবেষ্টিত হয়ে যে চটুল ও আদি রসাত্মক গানটি গেয়েছিলেন তা জাতিকে বিষ্ময়ে বিমূঢ় করেছিল।

তার ঠোঁট নিয়ন্ত্রণের জন্যে পরামর্শদাতাকে যেমন দফতরবিহীন বা ক্ষমতাহীন করেছেন তেমনি তাঁকে প্লুটো,এরিষ্টটলের সাথে তুলনা করা কিংবা ' আমার নেত্রী কোন ভুল করতে পারেন না ' বলা নেতাকে সর্বোচ্চ পদে বসিয়েছেন। যিনি তাকে আল্লাহর অলি বলেছেন তার জন্যে সাত খুন মাফ (এটি একটি প্রচলিত বাগধারা) করে দিয়েছেন।
তিনি এখন সত্যি এরিষ্টটল,প্লুটো,আল্লাহর অলি প্রভৃতি হয়ে পড়েছেন। এই অলি বা খাজা বুবুর সংসদে গানের তালে তালে তাঁর গুণকীর্তন করেন গায়িকা সাংসদ । এই ফুলের জলসায় এক কবিকেও অনেক নাটক করে হাজির করা হয়েছে । এই কবি যখন কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন জাত কবিরা তখন কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। রাগের চোটে এক কবি লিখেছিলেন, 'সব শালাই কবি হতে চায়।

এই কবি থুথু বাবা না হওয়ার জন্যে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের প্রাক্কালে সিএমএইচে ভর্তি হয়ে গলফ খেলেছেন, আবার এসে শপথও নিয়েছেন । এখন মন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ দূত হয়ে আবার মালিকিনীর প্রীতি-গালিও খাচ্ছেন। ক্ষমতা চলে গেলে এরশাদের কাছ থেকে নারী ও কবিতা দুটোই সরে গিয়েছিল । এখন আবার ক্ষমতা ফিরে এসেছে, কবিতাও ফিরে এসেছে। বাকিটা অাসবে কি না তা দেখার বিষয়।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, সংসদকে রঙ্গমঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে। এই রঙ্গমঞ্চ নিয়ে সরকার আবার পাঁচ বছর থাকার অঙ্গীকার করছেন।
তুহিন মালিক ঠিকই বলেছেন, ষোলকলা পূর্ণ হতে এখন শুধু সংসদে একজন নর্তকীর দরকার। লেখক- মিনার রশীদ( রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার)।

ঢাকা, ০৫ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস