নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সঙ্গত কারণেই নির্বাচন কমিশন ও কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের সম্মান এবং পদমর্যাদা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের। মূলত কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের সাফল্য-ব্যর্থতার ওপরই নির্ভর করে কমিশনের সাফল্য-ব্যর্থতা।
প্রাসঙ্গিক কারণেই এসব সাংবিধানিক পদে এমন লোকদের বসানো দরকার যারা নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও পদমর্যাদার প্রতি সুবিচার করতে পারেন। তাই এসব পদে দলনিরপেক্ষ লোকদের দায়িত্ব প্রদানই বাঞ্চনীয়। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয়। কমিশনের কাজকে সফল ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার। আর সরকার ও কমিশনের যুগপৎ প্রচেষ্টায় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
বস্তুত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো জাতীয় নির্বাচন সহ দেশের সকল নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা। নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিধি এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের দেশের কোন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাবোধের মজবুত ভিত্তিটা এখনও গড়ে ওঠেনি। স্বেচ্ছাচারিতা আমাদেরকে সকল ক্ষেত্রেই পেয়ে বসেছে। তাই আমরা প্রায় ক্ষেত্রেই নিজের সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলি, অনাধিকার করে ফেলি অনেক ক্ষেত্রেই। এজন্যই আমাদের মাঝে-মধ্যেই বিপত্তি দেখা দেয়। আর এই বিপত্তির ব্যাপ্তীটা রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে একেবারে ব্যক্তিজীবন পর্যন্ত।
হাল আমলে এই সীমা লঙ্ঘনটা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আর তা যদি রাষ্ট্রের একেবারে নিম্ন পর্যায়ে হত তাহলে বিষয়টি কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে থাকতো। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে এই সীমালঙ্ঘনের প্রবণতা এখন রাষ্ট্রের একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেশ কয়েক বছর আগে একজন প্রধান বিচারপতি শপথ গ্রহণের পর সাবেক রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতে গিয়েছিলেন। তিনি মাজার জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সুপ্রীমকোর্ট প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্বপ্নবাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে’।
তদানীন্তন প্রধান বিচারপতির বক্তব্য আমার বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। আমি ‘কারো সপ্ন বাস্তবায়ন সুপ্রীমকোর্টের কাজ নয়’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিকে একটা নিবন্ধও লিখেছিলাম। আর এই নিবন্ধ লিখতে গিয়ে আপীল বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতির মতামতও নিয়েছি। তিনি এ নিয়ে আমার সাথে বেশি কথা বলতে রাজী হননি। শুধু এতটুকুই বলেছিলেন যে, ‘এরা কোন বিচারক নয়। এদের নিয়ে কোন মন্তব্য করতেও রুচীতে বাধে’। আসলেই তিনি যে ন্যায়বিচারক ছিলেন না পরবর্তীতে তা ভালভাবেই প্রমাণ দিয়েছেন।
আমাদের দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়। আমাদের নেতিবাচক ও ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অনেক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার অযৌক্তিকভাবেও সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু যৌক্তিক কারণেও যে প্রধান নির্বাচন কমিশনাররা সমালোচিত হয়েছেন এ সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী রকিব কমিশনের অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল। প্রভূ ভক্তিতে রকিব সাহেবরা যত করিৎকর্মা ছিলেন সে বিষয়ে একটু পরে আসছি। মনে করা হয়েছিল যে, রকিব কমিশনের বিদায়ের পর নতুন কমিশন অপেক্ষাকৃত ভাল হবে। কিন্তু রকিব সাহেব নেয়ার আগেই আমাদের সে মোহ ভঙ্গ করে গেছেন।
তিনি বিদায় নেয়ার প্রাক্কালে বলে গেছেন, ‘আমার কমিশন যেভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছে নতুন কমিশনও একই ভাবে সফল হবে’। তার এমন মন্তব্যে দেশের মানুষই লজ্জা পেয়েছিল। কারণ, রকিব কমিশনের সাফল্য ব্যর্থতা কারোরই অজানা নয়। কিন্তু বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারও আমাদেরকে তেমন আশার বাণী শোনাতে পারেন নি বরং তিনি আমাদেরকে আবারও হতাশ করেছেন।
বিএনপির সাথে সংলাপে তিনি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিতভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাজনীতির মাঠকে আবারও গরম করে তুলেছেন। তার এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যা কাঙ্খিত ছিল না। আসলে দেশ ও জাতির জন্য কে কী অবদান রেখেছেন তার মূল্যায়নের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয় বরং তা জনগণের। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করায় হলো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। কমিশনের এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।
মূলত বর্তমান বিশ্ব গণতান্ত্রিক বিশ্ব। কিন্তু আমরাই বোধহয় এর কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম। কারণ, আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এখনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এর নানাবিধ কারণও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দলবাজীটাও এজন্য কিছুটা হলেও দায়ি। কারণ, আমাদের দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনারদের বাছাই করার ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যকেই প্রধান্য দেয়া হয় বলেই মনে করা হয়। আর বিপত্তিটা মূলত এখানেই। ফলে এসব দলবাজ ও দলীয় সুযোগ-সুবিধাভোগী লোকদের দিয়ে কোনভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয় না। ফলে নির্বাচন নিয়ে একটা বিতর্ক থেকেই যায়। আর থাকার যৌক্তিকতাও উপেক্ষা করা যায় না সঙ্গত কারণেই। আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সংস্কৃতিতে এমন বদনজীর নেহাত কম নয়।
এ প্রসঙ্গে বিগত দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেক কথায় বলা যেতে পারে। মূলত দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন ছিল একদলীয় ও একতরফা নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কোন ঝুঁকি থাকার কথা ছিল না। কমিশন এমন একদলীয় নিবাচন নিয়েও দলবাজীর উর্দ্ধে উঠতে পরেনি। যা আমাদের দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে দুষ্টক্ষত হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। বর্ণিত নির্বাচনে তো ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় সাংসদ নির্বাচিত হয়ে বিনাভোটেই জাতীয় সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু পর রকিব কমিশন সে নির্বাচনেও নিরপেক্ষতা ও কর্মদক্ষতা প্রদর্শন করতে পারেনি। জনশ্রুতি আছে যে, সে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা শতকরা ৫ ভাগের বেশী ছিল না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলে ভৌতিক ভোটের আমদানী জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। শুধুমাত্র ঢাকা সিটির ২৯ টি কেন্দ্রে কোন ভোট না পড়লেও ঘোষিত ফলাফলে এসব এসব কেন্দ্রে ভোটের তেমন কোন অভাব হয়নি। যা রকিব কমিশনের তেলেসমাতিই বলতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন করিৎকর্মা নির্বাচন কমিশন জাতি কখনো প্রত্যক্ষ করেনি।
উল্লেখ করা দরকার যে, দশম সংসদ নির্বাচন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রার্থীরা প্রত্যাহারের আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন সরকারকে আনুকুল্য দেয়ার জন্যই তার প্রার্থীতা বহাল রাখে। নির্বাচন কমিশন তার নির্বাচন না করার অধিকারও কেড়ে নেয়। তিনি নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতা না করলেও তার বাক্সে ভোটের অভাব হয়নি দলবাজ নির্বাচন কমিশনের কারণে। যা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অকৃত্রিম প্রভূ ভক্তির কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয় বরং স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে সরকার দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শো-কজ করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত সরকার দলীয় কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোন অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।
এজন্য বিরোধী দলীয় একজন নেতা এই সব শো-কজ নোটিশকে ‘প্রেমপত্র’ বলে খেদোক্তি করেছিলেন। লোকজন এ নিয়ে হাসাহাসি করলেও বাস্তবতার বিষয়টি মোটেই উপেক্ষা করা যায়নি। মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনার নিয়োগে দলীয় মনোবৃত্তির লোকদের বাছাই করার কারণেই নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব অনিয়ম ও অপসংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে। যা সহসাই দুর করা যাবে বলে মনে হয় না। মূলত রকিব কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। কারণ, দলীয় আজ্ঞাবাহী লোকদের দিয়ে কোন ভাবেই এধরনের মহতি করা সম্ভব নয়। তাই জনগণের অশ্রদ্ধা নিয়েই রকিব কমিশনকে দৃষ্টপট থেকে বিদায় নিয়েছে।
রকিব কমিশনের বিদায় নেয়ার আগেই নতুন মেয়াদে কমিশন গঠনে মাননীয় রাষ্ট্রপতি যোগ্য ও নিরপেক্ষ লোক বাছাইয়ের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। গঠিত সার্চ কমিটি দাখিলকৃত নামের তালিকা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ অন্য কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু নবগঠিত কমিটিও জনমনে স্বস্তি ফিরে আনতে পারেনি। মনে করা হয়েছিল যে, বলবাজ রকিব কমিশনের বিদায়ের পর একটি দলনিরপেক্ষ নতুন কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু এখানেও আমাদেরকে আশাহত হতে হয়েছে। অনেক ঢাকাঢোল পিটিয়ে কে এম নূরুল হুদা কমিশনকে নিয়োগ দেয়া হলেও আমরা বোধহয় পুরনো বৃত্ত থেকে এখনও বের হতে পারিনি। ১৯৯৬ সালের আমলা বিদ্রোহের সাথে জড়িত কে এম নূরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আমরা আবার বিশ্ববাসীকে জানানা দিয়েছি যে, দলবাজীতে আমরাই বিশ্বসেরা। এনিয়ে বিশ্ব আমাদের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।
আমলা বিদ্রোহের নায়কদের নির্বাচন কমিশনে সরব পদচারণা এই প্রথম নয় বরং ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আরেক বিদ্রোহী আমলা শফিউর রহমান। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আইন ও চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্রোহ করা আমলাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দান এই প্রথম। তিনি যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না সে যোগ্যতার (?) সাক্ষর তিনি আগেই রেখে গেছেন। প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে চাকুরীচ্যুত হয়েছিলেন।
তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এমনকি তিনি বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ছিলেন বলেও জানা গেছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত সার্চ কমিটি অনেক তল্লাশীর পর এমনই একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছেন। যা দেশের সচেতন মানুষ পর্বতের মুশিক প্রসব হিসেবেই দেখেছেন। তাই হুদা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একটা প্রশ্ন তোলার সুযোগটা রীতিমত থেকেই যাচ্ছে।
মূলত ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার উৎখাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন এসব বিদ্রোহী আমলারা। এদের উন্নতম প্রধান বিদ্রোহী ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ ও সাবেক আমলা মহিউদ্দীন খান আলমগীর। অভিযোগ ওঠেছে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার বিরুদ্ধেও। যাহোক একথা বলতে অবশ্যই দ্বিধা নেই যে, যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী থাকাকালে প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন তাদের পক্ষে দলবাজীর উর্দ্ধে ওঠে কোন কাজই নিরপেক্ষভাবে করা সম্ভব নয়। আর নির্বাচন কমিশনের মত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন সব দলবাজ লোকদের দায়িত্ব প্রদান মোটেই সঙ্গত বলে মনে করেন না অভিজ্ঞমহল। আর এজন্যই আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নির্বাচনী সংস্কৃতিটা গড়ে উঠতে পারছে না।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সাথে বিএনপির সংলাপের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে নিজেই বির্তক সৃষ্টি করেছেন। এতে বিএনপি ঘরানার কেউ কেউ পুলকবোধ করলেও এখানে পুলকিত হওয়ার মত কিছু নেই। কারণ, নির্বাচন কমিশন কোন বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর চাটুকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া মোটেই কাম্য নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার নিরপেক্ষতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তারা পদত্যাগ দাবি করেছেন। আওয়ামী ঘরানার পক্ষ থেকেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। যা তার গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আসলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্য মোটেই কাঙ্খিত হয়নি। তার বক্তব্যে মহল বিশেষ পুলকিত হলেও অভিজ্ঞমহল বলছে ভিন্নকথা। তাদের বক্তব্য হলো, বিএনপির কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা এবং তাদেরকে ফাঁদে ফেলে তার অধীনে নির্বাচনে আনার জন্যই তিনি এমন কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তাই বিএনপি তার এমন বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয় কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্যে সচেতন মহল মোটেই কাঙ্খিত মনে করছেন না বরং তার বক্তব্য ‘ধান ভানতে শীবের গীত’ বলেই মনে করা হচ্ছে।
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)
এমবি





