নাগরিক সেবা হয়রানিমুক্ত ও দ্রুততম সময়ে প্রদানের জন্য সেবা কুঞ্জ বা সেবা গ্রহীতাদের বসার বিশ্রামাগার নির্মানের পাশাপাশি সেবা প্রদানকারীকে আন্তরিক হওয়া জরুরি। সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশ্রামাগারে বসার চেয়ে অতিদ্রুত সেবা পাওয়াই সেবা গ্রহীতা আশা করে থাকেন।এজন্য কিছু করণীয় আছে---

১। অধিকাংশ অফিসে জনবল সংকট আছে। ২০ বছর আগেও যে জনবল বর্তমানেও তাই। সেবা গ্রহীতার অনুপাতে জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

২।কোন কোন দপ্তরে ১/২ টি কম্পিউটার আছে কিন্তু কম্পিউটার অপারেটর নাই। আবার কোন কোন অফিসে এমএলএসএস/ অফিস সহায়ককে পদোন্নতি দিয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর বানানো হয়েছে তারা কম্পিউটার সম্পর্কে কিছুই জানেননা। অথচ কম্পিউটার ছাড়া কোন অফিসই এখন কল্পনা করা যায় না।

৩।অধিকাংশ অফিসে শূন্য পদের পাশাপাশি দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। বেশি বেশি কার্যকরী প্রশিক্ষণ দিয়ে জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

৪। অফিসগুলোতে সেবা দাতার কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। অধিকাংশ অফিসেই এক কক্ষে একাধিক বা ততোধিক জনবল অস্বস্তিকর পরিবেশে কাজ করে থাকেন।এতে তাদের সেবা প্রদানে অনিহা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

৫। অনলাইনে কোন কোন অফিস সেবা প্রদানের চেষ্টা করলেও মাসে ইন্টারনেট বরাদ্দ মাত্র ৫৭৫ টাকা পান।অথচ ইন্টারনেট বিল মাসে ১০০০/ বা তার চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হয়। এই সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

৬। উপজেলা পর্যায়ে দুই তিনটি অফিসে ফটোকপি মেশিন আছে। দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদানের জন্য ফটোকপি মেশিন ও ফটোকপির বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

৭। হয়রানিমুক্ত ও দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মচারীদেরও ২/৩ বছর পর পর বদলি করে অফিস দূষণমুক্ত করা প্রয়োজন।

৮।সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন কানুন সংশোধন করে যতটা সহজে সেবা প্রদান করা যায় এমন আইন করা প্রয়োজন।

৯। সরকার সবকিছুই করে দিল কিন্তু সেবা প্রদানকারীর সেবা প্রদানের মানসিকতা ও আন্তরিকতা থাকলোনা তাহলেও কাজ হবেনা। সেবা গ্রহীতাকে দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদানের জন্য আন্তরিকতাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

লেখক: উপজেলা শিক্ষা অফিসার, কুমারখালী, কুষ্টিয়া