মূলত সাঁওতালরা অতিশান্তিপ্রিয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত। কিন্তু তাদেরকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার বিদ্রোহ করতে হয়েছে। মুখোমুখি হতে হয়েছে কঠিন বাস্তবতার। ১৮৫৫ সালে সিদু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল সমচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী।

এতে ১০ হাজার সাঁওতাল প্রাণ হারিয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে নাচোলের রাণী খ্যাত কমরেড ইলা মিত্রও সাঁওতালদের সংঘঠিত করেছিলেন তাদের নায্য অধিকার আদায়ের জন্য। কিন্তু তা মোটেই সুখকর হয়নি। ব্যর্থ বিদ্রোহের পর পালাতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন বিদ্রোহের নেত্রী কমরেড ইলা মিত্র ।

এখানেই শেষ নয়। সাঁওতাল বিদ্রোহে নেতৃত্ব ও হত্যার অভিযোগে তিনি নির্মম নির্যাতনের শিকারও হয়েছিলেন এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সাঁওতালদের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি বরং তাদেরকে রক্ষার ¯শ্লোগান দিয়েই যুগে-যুগে নানা কৌশলে তাদেরকে বাস্তুভিটা ও সহায়-সম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বারবার প্রতারিতই হয়েছেন তারা। সে ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত আছে। এদের সরলতার সুযোগেই একশ্রেণির টাউট-বাটপার তাদের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করেছে।

শিক্ষা-দিক্ষায় এরা কিছুটা অনগ্রসর ও সরল বিশ্বাসী হওয়ায় অতীতে যেমন প্রতারিত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। আর এই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটেছে সম্প্রতি। গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। যা দেশের সচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।

আমাদের দেশের সংবিধানে ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষ সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সংবিধানে ১৯ (১) অনুচেছদে বলা হয়েছে, ÔThe State shall endeavor to ensure equality of opportunity to all citizens.’অর্থাৎ সকল নাগরিকের জন্য সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন।

সর্বপরি সংবিধানে অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ÔThe State shall take steps to protect and develop the unique local culture and tradition of the tribes, minor races, ethnic sects and communities.’

 

অর্থাৎ রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্টপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

রাষ্ট্রের দায়িত্বই হলো ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বোধহয় অনেকটা ব্যর্থতারই পরিচয় দিচ্ছে। শুধু দেশের সংখ্যালঘু বা ধর্মীয় নৃ-গোষ্ঠীই নয় বরং রাষ্ট্র কোন শ্রেণির মানুষেরই নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারছে না।

জনগণের অধিকার নিশ্চিতের কথা বলে বারবার ক্ষমতার হাত বদল হচ্ছে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য জনগণের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটছে না। শুধুমাত্র ক্ষমতাকেন্দ্রীক ও নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই আমাদের জাতীয় জীবনের এই বেহাল দশা। তাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে তা মনে করা যুক্তিযুক্ত হবে বলে মনে হয় না। সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ক সাম্প্রতিক ঘটনাবলীও একই সূত্রে গাঁথা।

মূলত সাঁওতালদের উচ্ছেদ কৌশল শুরু হয় ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের শুরু থেকেই। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন ভয়াবহ চিত্রই ওঠে এসেছে আমাদের সামনে। সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তাও সচেতন মানুষের বিবেককে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব ছিল বলে মনে করেন অনেকেই।

কিন্তু দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা, স্বার্থান্ধ অপরাজনীতি, হল বিশেষের শঠতা ও উচ্চাভিলাষের কারণেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় মনে হয়েছে একটি মহল সহজ-সরল সাঁওতালদের ‘গাছে তুলে দিয়ে মই সরিয়ে নিয়েছে’। ফলে এক অনভিপ্রেত অবস্থার সৃষ্টি এবং প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। যা যেমন কারো কাম্য ছিল না; তেমনি তা কারো জন্য কল্যাণকরও হয়নি বরং আমাদের দেশ ও জাতিস্বত্ত¡াকেই কলঙ্কিত করেছে।

পৃথিবীর সব দেশের সংখ্যালঘুদের সংকট মোটামুটি একইরকম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশেও সংখ্যালঘু নিগ্রহের ঘটনা নেহাত কম নয়। কিন্তু আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বেই অন্যন্য সাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কিন্তু কিছু সংখ্যক ক্ষমতালোপী ও স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণেই আমাদের এই মহান অর্জন বারবার হোঁচট খেয়েছে এবং সে ধারা এখনও অব্যাহত আছে। কিন্তু সার্বিক দিক বিবেচনায় এখনও বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির রোল মডেল একথা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

আমাদের নিকট প্রতিবেশী ভারতের দিকে তাকালে এক ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাই। ভারতে এমন কোন দিন যায় না যেদিন সংখ্যালঘু ও নিম্ববর্ণের মানুষ নিগ্রহের শিকার হন না। আমাদের আরও এক নিকট প্রতিবেশী মিয়ানমানের অবস্থা তো আরও ভয়াবহ। ধর্মীয় বোধ-বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে সকল নির্মমতা ও বর্বরতাকে হার মানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা হলেও বেড়েছে। অবশ্য বর্তমান সরকার নিজেদেরকে সংখ্যালঘু বান্ধব সরকার বলেই মনে করে এবং দেশের সংখ্যালঘুদের ভোট তাদের জন্য রিজার্ভ মনে করা হয়।

যদি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে এর কিছুটা ব্যত্যয় ঘটতে শুরু করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এ সরকারের আমলেই দেশে সংখ্যালঘু নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশী। কিন্তু এসবের কোন প্রতিবিধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে সচেতন মানুষ এসব ঘটনার সাথে সরকার সংশ্লিষ্টদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন। সার্বিক দিক বিবেচনায় এর বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না।

অবশ্য নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উপর দোষ চাপানো একশ্রেণির মানুষের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের দেশের প্রচলিত অপরাজনীতির ফলশ্রæতি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ ধরনের ঘটনা এখন প্রতিনিয়তই ঘটতে দেখা যাচ্ছে সারাদেশেই।

সে ধারাবাহিকতায় ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেছে সাঁওতালদের। রংপুর সুগার মিলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হলেও, সাঁওতালদের দাবি, অনেক আগে থেকেই ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা চলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ৬ নভেম্বর তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শ্যামল হেমব্রম নামে একজনের মাথার খুলি উড়ে যায়। গুলিবিদ্ধ আরও বেশ কয়েকজন। সব মিলিয়ে আহত অন্তত ৩০। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে খবর এসেছে। আসলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বারবারই উড়ে যায় শ্যামল হেমব্রমদের মাথার খুলী। কিন্তু বিচারের বাণীর নিভৃত কান্না তো কোন ভাবেই শেষ হয় না।

আসলে বন-পাহাড় থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে উচ্ছেদ এটিই প্রথম নয়। মধুপুর বনের গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগে শত শত আদিবাসীর বিরুদ্ধে মামলা এবং মামলায় হয়রানিও বহু পুরনো স্টাইল। যে মানুষেরা বনের ওপর নির্ভরশীল, যুগ যুগ ধরে যেখানে তারা বসবাস করেন, সেখানের গাছপালা কেটে নিয়ে নিজেদের আসাবস্থল অরক্ষিত করার মতো আত্মঘাতি কাজ করা যে কোনো অর্থেই যৌক্তিক নয়,

তা যুক্তিবাদী যেকোনো মানুষের পক্ষেই বোঝা সহজ। কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের বোঝায়, ওরাই বনের শত্রু। কারণ ওরা সংখ্যালঘু। ওদের ওপর ছড়ি ঘোড়ানোটা বেশ সুবিধাজনক। বাস্তবে হচ্ছে তাই।

মূলত দুর্বলের প্রতি সবলের নিগ্রহ নতুন কিছু নয় বরং তা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বলা যেতে পারে। আর এসবের সাথে প্রভাবশালী মহলসহ ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ত হাত থাকে। সাঁওতালরা সে ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হচেছন প্রতিনিয়ত।

অভিজ্ঞজনরা তো সে কথায় বলছেন বেশ জোড়েসোড়েই। সম্প্রতি ক্ষুদ্র এই নৃ-গোষ্ঠীদের নিয়ে গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৪৭ সাল থেকে ২০১৪; এই ৬৭ বছরে সাঁওতালদের ৫ হাজার ১৯০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়েছে। আর এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় ১৬ ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে রক্ষার ¯েøাগান দিয়েই কৌশলে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিবারই এই উচ্ছেদের নেতৃত্বে ছিলেন ভূমি কর্মকর্তারা, নেপথ্যে ছিলেন রাজনৈতিক নেতারা। এভাবেই গত ৬৭ বছরে সাঁওতালদের ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ একর জমি হাতছাড়া হয়েছে।

গবেষণায় ওঠে এসেছে, ‘১৯৪০ সালের আরএস রেকর্ড অনুযায়ী গোবিন্দগঞ্জের এই বিরোধপূর্ণ জমির মালিক মূলত সাঁওতালরা। এর সঙ্গে কিছু ‘কোল’ও ‘ওঁরাও’জনগোষ্ঠীর জমিও আছে। ১৯৬২ সালে জমির যে সীমানা নির্ধারণ (ডিমারকেশন) করা হয়, সেখানে বলা আছে কোন জমি কার।’’বলা হয়, ‘১৯৬২ সালের ৭ জুলাই একটি চুক্তির মাধ্যমে চার মৌজার ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

চুক্তিপত্রের ৫ ধারা অনুযায়ী, জমি সাঁওতালদের কাছে যাওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীকে নামে-বেনামে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি দরে এই জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই ইজারা থেকে শত কোটি টাকার বেশি আদায় হয়েছে। এ টাকাটাও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরই প্রাপ্য।’আর এভাবেই দীর্ঘ কালের পরিক্রমায় পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে সাঁওতালরা খামারের বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদ করার দাবি তুলতে থাকে। এই ইউনিয়নের বাসিন্দা শাকিল আহমেদ ২০১৪ সালে সাঁওতালদের আন্দোলনের নেতৃত্ব নেন। তাঁকে সভাপতি ও শাজাহান মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে সাঁওতালদের নিয়ে গঠন করা হয় ‘সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি’।

৪১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সাঁওতালদের মধ্যে ফিলিমিন বাস্কে ছিলেন সহসভাপতি। কমিটি দাবি তোলে, খামারে ইক্ষুর বদলে অন্য ফসল চাষ করা হচ্ছে। সে কারণে জমি তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৫২-৫৪ সালে সাঁওতাল ও আশপাশের মুসলিম-হিন্দুদের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৪২ একর জমি সরকার অধিগ্রহণ করে।

লিজ গ্রহণকারীরা আখের বদলে অন্য ফসল চাষ করায় এবং তারা সাব-লিজ দেওয়ায় ভূমি উদ্ধার কমিটির নেতৃত্বে সাঁওতালরা ফার্মের জমিতে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ভূমি উদ্ধার কমিটির আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে স্থানীয় সাংসদও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন বলে স্থানীয় সাঁওতালরা জানান।

একটি মহল চেষ্টা করে সাঁওতালদের দিয়ে জায়গা দখল করে চিনিকলকে আবার লিজ ব্যবস্থা চালু করাতে। তারাও সাঁওতালদের সমর্থন জানাতে থাকে। যদিও চিনিকল কর্তৃপক্ষ সরকারি জায়গা কোনো ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই বলে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। এদিকে স্থানীয় এমপি ও চেয়ারম্যানের প্ররোচনায় সাঁওতালরাও তাদের অবস্থানে অটল থাকে। আর এভাবেই পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতিশীল হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, খামারের জমিতে ঘর তোলার প্রস্তুতি চলছিল আগে থেকেই। চিনিকলের প্রশাসন তাতে বাধাও দিয়েছিল। ইতিমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর শাকিল আহমেদ উদ্ধার কমিটির সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে দেন। মূল নেতৃত্ব তখন চলে যায় শাহজাহান মিয়া ও ফিলিমিন বাস্কের হাতে। সাঁওতালরা খামারের বিভিন্ন অংশে চাষাবাদ শুরু করে। তারা যৌথ শ্রম ও খরচে ৩৫০ একরে মাষকলাই, ১১৫ একরে পাট ও ১৩৫ একরে রোপা আমন ধান এবং বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে সবজি চাষ করে।

এই পর্যায়ে চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা করে। কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহমেদ সাঁওতালদের পক্ষ ত্যাগ করে উচ্ছেদকারীদের পক্ষে চলে যান। ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুলিশ-র‌্যাবের যৌথ অভিযানে তিনিও অংশ নেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীও উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়। এই গ্রামবাসীই মূলত এক রাতে কলাই, পাট ও সবজিখেত ধ্বংস করে দেয়। পরদিনও বিচ্ছিন্নভাবে মূল সাঁওতালপল্লিতে কয়েকটি বাড়িতে হামলা হয়। গবাদিপশু লুট ও ঘরের টিন খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় চেয়ারম্যান বুলবুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সাহেবগঞ্জে আদিবাসী-বাঙালির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পল্লীতে ৬’শ ঘর ও স্কুলে অগ্নিসংযোগ করে। এটি মোটেও আখ কাটতে গিয়ে বাধা দেয়ার ফলে সৃষ্ট কোন কাকতালীয় ঘটনা নয়। পুলিশ প্রহরায় আখ কাটতে যাওয়ার কোন যুক্তি নেই। আদিবাসী-বাঙালিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার জন্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়’।

অবশ্য ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং ১৯৫০ সালে ইলা মিত্রের নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহের ঘটনা কিছুটা হলেও আলাদা। কিন্তু একটি বিষয় মোটামোটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গোবিন্দগঞ্জের বিরোধপূর্ণ জমি বংশ পরম্পরায় সাঁওতালদের। পরে সরকার ইক্ষু চাষের জন্য বিরোধীপূর্ণ সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। অথচ এ সম্পত্তিকে সরকারি খাস সম্পত্তি বা চিনিকলের সম্পত্তি দাবি এবং সাঁওতালদের সাথে পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণেই এই দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা হয়েছে।

একথা বললে অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয় যে, স্থানীয় একশ্রেণির মানুষ এ বিষয়ে সাঁওতালদের উস্কে দিয়ে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করেছিল। কিন্তু তা মোকাবেলায় প্রশাসন যে শ্যামল হেমব্রমের মাথার খুলী উড়িয়ে এমনটা এড়ানো বোধহয় খুবই সম্ভব ছিল। কারণ, সাঁওতালরা এমন প্রভাবশালী ছিল না যে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হবে। বিষয়টি ‘মশা মারতে কামান দাগার মতই শোনায়। আসলে আমাদের দেশের এক ভাগ্যবিড়ম্বিত নৃ-গোষ্ঠী হচ্ছে সাঁওতাল সম্প্রদায়। তাদের এ বিড়ম্বরনার শেষ কোথায় তা বলা বেশ মুস্কিল। কিন্তু রাষ্ট্রকে তো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যার যা অধিকার তা ফিরিয়ে দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমন কল্যাণকামী রাষ্ট্রই জনগণ প্রত্যাশা করে।

 

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf

 

 

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf

 

 

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf

 

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf

মাহমুদ.

 

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

 

 

 

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই) - See more at: http://www.timenewsbd.com/news/detail/93940#sthash.ERsg9PeX.dpuf