পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরে কোন কারণে (তাপ ও চাপের তারতম্যজনিত) দ্রুত বিপুল পরিমান শক্তি মুক্ত হওয়ায় ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী ঝাঁকুনি বা কম্পনের নাম ভূমিকম্প।’An earthquake is a shaking of  the earth crust.’  ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারনে সৃষ্ট এই স্পন্দনের মাত্রা মৃদু কম্পন থেকে প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্যে হতে পারে।

ভূমিকম্প হচ্ছে এক ধরনের তরঙ্গ শক্তি যা খুবই অল্প সময়ের মধ্যে উদ্ভুত হয়ে প্রচন্ড গতিতে সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারনত কয়েক সেকেন্ড থেকে এক-দুই মিনিট পর্যন্ত ভূমিকম্প স্থায়ী হতে পারে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ নয়। পৃথিবী সৃষ্টির লগ্ন থেকেই এটি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

এই প্রাকৃতিক দূর্যোগের কাছে মানুষ সম্পূর্ণ অসহায়। শুধু ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর চেষ্টা ছাড়া মানুষের প্রকৃতপক্ষে করার কিছুই নেই। তাই বিশ্বব্যাপী আজ বড় চিন্তা-ভাবনা হলো কিভাবে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রাকে সর্বনিম্ম করা যায়। বাড়ানো হচ্ছে ভূমিকম্পের জনসচেতনতা। নগর সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে ভূমিকম্পরোধী বিল্ডিং কোড, অব্যাহত রাখা হয়েছে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা পাওয়ার প্রচেষ্টা।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হলেও এই কম্পনের গতি, প্রকৃতি ও মাত্রা সম্পর্কে ধ্যান-ধারণা খুবই অপ্রতুল। পৃথিবী কতগুলো প্লেট বা পাত দ্বারা সংঘটিত ইন্ডিয়ান প্লেট তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান প্লেটের একটি অংশ। ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে বার্মিজ প্লেট এবং উত্তরে তিব্বতিয়ান প্লেট; যা ইউরেশিয়ান প্লেটের অংশ।

ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ায় কৌণিকভাবে বার্মিজ এবং তিব্বতিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দিচ্ছে। ফলে পূর্ব দিকে ইন্ডিয়ান প্লেট দেবে যাচ্ছে বার্মিজ প্লেটের নিচে এবং বার্মিজ প্লেট ওপরে ওঠায় আরাকান ইয়োমা পর্বত শ্রেণীর সৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকাসমূহ আরাকান-ইয়োমা পর্বতশ্রেনীর অন্তর্গত। আবার উত্তর দিকে ইন্ডিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দেয়ায় হিমালয় পর্বতশ্রেণী সৃষ্টি হয়েছে।

পৃথিবীর অধিকাংশ ভূমিকম্পের উৎপত্তি দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে। বাংলাদেশের পূর্বে ইন্ডিয়ান ও বার্মিজ প্লেটের সীমানা বরাবর এবং উত্তরে ইন্ডিয়ান ও তিব্বতিয়ান প্লেটের সীমানা বরাবর ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলগুলোর  অবস্থান।

ইন্ডিয়ান প্লেট অন্য দুটি প্লেটকে ধাক্কা দেয়ায় প্লেটগুলোর সীমানা বরাবর শক্তি সঞ্চয় হতে থাকে। এই জমাকৃত শক্তির যখন ভারসাম্য নষ্ট হয় তখন পরস্পর সংঘর্ষের ফলে ইন্ডিয়ান প্লেট বার্মিজ বা তিব্বতিয়ান প্লেটের নিচে ঢেবে যায় এবং অবমুক্ত শক্তির দ্বারা ভূ-কম্পন শুরু হয়। এই কম্পন তরঙ্গ মাটির ভেতর দিয়ে বহুদূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

মাটি শক্ত হলে ভূমিকম্পের তরঙ্গ অতিদ্রুত সঞ্চালিত হয় এবং ক্ষয়-ক্ষতি কম হয়। অন্য দিকে মাটি নরম হলে ভূমিকম্পের তরঙ্গও মন্থর হয়, কম্পন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ক্ষয়-ক্ষতি অনেক বেশি হয়।

বাংলাদেশ উচ্চ ভূ-কম্পনশীল অঞ্চলসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত, যার মধ্যে রয়েছে উত্তরের হিমালয়ান আর্ক ও শিলং মালভূমি, পূর্বে জটিল নাগা সিডাং হাফলং ঘাত অঞ্চল। এটি অসংখ্য অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠ সক্রিয় চ্যুতি ও হিনজ জোন নামে পরিচিত একটি ভগ্ন অঞ্চলসহ বৃহৎ ডাউকি চ্যুতি অঞ্চল।

ভূ-গাঠনিক দিক থেকে দুর্বল এসব অঞ্চল অববাহিকার এলাকার মধ্যে শিলা চলাচলের প্রয়োজনীয় স্থান সঙ্কুলান করে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশের সাধারণীকৃত ভূ-গাঠনিক মানচিত্রে মূল কেন্দ্রসমূহের বন্টন ডাউকি চ্যুতি ব্যবস্থা বরাবর এক রেখায় এবং বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ভাবে দেখা যায়।

মানচিত্রের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূল কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠ চ্যুতিতে গঠিত দূর্বল অঞ্চলে অবস্থিত। এখানকার কম্পনগুলো মাঝারি মানের (স = ৪ -৬) এবং কম গভীরতায় অবস্থিত যা ভিত্তি শিলায় অধিশায়িত অবক্ষেপে সা¤প্রতিক বিচলনের ইঙ্গিতবাহী।

উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অংশে (সুরমা বেসিন) গুরুত্বপূর্ণ কম্পনগুলো ডাউকি চ্যুতিব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মধুপুর সোপানস্তুপের ভেতরে ও আশেপাশে সংঘটিত কম্পনসমূহ পলল থেকে স্তুপকে পৃথককারী চ্যুতির অগভীর স্থানান্তরের ইঙ্গিতবাহী।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব এবং উত্তরের এলাকাগুলো ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝূুঁকির মধ্যে রয়েছে।


বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূ-কম্পন বলয়ে অবস্থিত। ফলস্রুতিতে বাংলাদেশে প্রায়শ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। তবে এই কম্পনের মাত্রা দেশের সর্বত্র সমভাবে অনুভুত হয় না। এই প্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সালে বিশেষজ্ঞরা সংশোধিত ভূ-কম্পন মানচিত্রে বাংলাদেশকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করেছেন। যথা -

অঞ্চল- ১: এটি দেশের ভূ-কম্পের দিক থেকে কম ঝুঁকিপূর্ন অঞ্চল। এ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে - দেশের দক্ষিন ও দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো।

অঞ্চল - ২ : এটি ভূমিকম্পের দিক থেকে মধ্যম ঝঁকিপূর্ন। এই অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও দিনাজপুর অঞ্চল।

অঞ্চল - ৩: এটি দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভূমিকম্পন প্রবন এলাকা বলে বিবেচিত। এই এলাকার মধ্যে রয়েছে  রংপুর , ময়মনসিংহ, সিলেটসহ দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাংশ।

২০০৯ সালের ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকা শহর এটির উৎপত্তি ছিল মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায়, যা ঢাকা শহর থেকে ৫৫২ কিলোমিটার দূরে ছিল। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে পরপর ( রাত ১০:৪০ মিনিট ও রাত ১১ টা ৪৪ মিনিট) বুধবার ৪.৬ - ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা শহর কেঁপে ওঠে।

আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ঢাকা শহরের মানুষ। যার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা শহরের খুবই কাছে। প্রথমটি চাঁদপুর এবং দ্বিতীয়টি ছিল গোপালগঞ্জে।

সম্প্রতি ভূমিকম্পে শুধুমাত্র ঢাকা শহর নয়, যা দেশের বিস্তীর্ন এলাকায় কম্পনের সৃষ্টি করে নারায়নগঞ্জের দুটি বহুতল বিশিষ্ট ভবনে ফাটল সৃষ্টি করে। শঙ্কার বিষয় হলো অতীতের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

কেউ কেউ বলছেন ঢাকার নিকটবর্তী মধুপুরে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল (এপি সেন্টার) আছে। অন্য দিকে এপি সেন্টারের কাছাকাছি হওয়ায় সিলেট ও চট্টগ্রাম আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ন। ১০ সেপ্টেম্বর ও ১২ সেপ্টেম্বর ২০১০ এ সারা দেশব্যাপী যে ভূমিকম্প হয় তার উৎপত্তি ছিল কিন্তু ডাউকি চ্যুতি বা মধুপুরে ছিল না, সম্পূর্ন আলাদা জোনে এর উৎপত্তিস্থল ছিল।

এর থেকে এটাই উপলব্দি করা যায় যে, পুরো বাংলাদেশটায় কম বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে অবস্থিত। তবে এ ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিন-পূর্ব এবং উত্তরের এলাকাগুলো ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকা সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল অপেক্ষাকৃত দূরে থাকার অন্য দুটি এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ন। রাজধানী ঢাকার কাছিকাছি কোন এপিসেন্টার না থাকায় ( মধুপুর এপিসেন্টারের কথা বলা হলেও সেটা নিয়ে মতভেদ আছে) স্বল্পমাত্রার ভূ- কম্পনে ঢাকার তেমন কোনঝুঁকি নেই।

এদিক থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম শহর এপি সেন্টারের সন্নিকটে হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি। অনেকের অভিমত রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার অধিক ভূমিকম্প ৩০ সেকেন্ডের অধিক স্থায়ী হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। প্রত্যেকটি শহরই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে।

তবে এ কথা অবলীলায় বলা যায়, যদি বাংলাদেশের কোথাও ৬ মাত্রার অধিক ভূমিকম্প হয় তবে ক্ষয়ক্ষতি হবে ব্যাপক। ভূমিকম্প যেহেতু সম্পূর্ন অনিশ্চিত একটি বিষয় সেহেতু সুনির্দিষ্ট ভাবে বলার কোন উপায় নেই যে কোন এলাকা বেশি ঝুঁকিতে আছে এবং কোন এলাকা কম ঝুঁকিতে আছে।

যেমন- বাংলাদেশের দক্ষিন ও দক্ষিন - পশ্চিম অঞ্চল ঝুঁকিমুক্ত এলাকা বলা হলেও সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে যশোর, খুলনা , বরিশাল , ফরিদপুর , মাগুরা , গোপালগঞ্জসহ দক্ষিন ও দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ন এলাকায় মাঝাারি মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং যার উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তরপূর্ব অঞ্চলের বাইরে চাঁদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায়। সুতরাং এটা প্রতীয়মান হয় যে ভূমিকম্প একটা সম্পূর্ন অনিশ্চিত বিষয় যা মানুষের সম্পূর্ন এখতিয়ারের বাইরে।

রাজধানী শহর ঢাকা বিপুল জনসংখ্যা আর অপরিকল্পিত ঘরবাড়ির এক জীর্ণ নগরী। ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের দিক থেকে কাছাকাছি ভূ-কম্পনের কেন্দ্রস্থল না থাকায় ঢাকা শহর তেমন একটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তা ছাড়া অতীতেও ঢাকায় বড় কোনো ভূমিকম্পের নজির নেই।

তবে যেহেতু ভূমিকম্প যেহেতু সম্পূর্ণ অনিশ্চিত একটি ঘটনা এবং পরপর দুই বছর একই সময়ে ( সেপ্টেম্বর মাসে) ঢাকা শহরে ভূমিকম্প হয়েছে সেই প্রেক্ষাপটে একে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।

অপরিকল্পিতভাবে এবং বিল্ডিং কোড না মেনে অসংখ্য বহুতল ভবন তৈরি করায় ৬-৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহরের অপূরণীয় ক্ষয়-ক্ষতি হবে তা অনস্বীকার্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে মারাত্মক ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে আছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে বারবার মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো জানান দিচ্ছে খুব শিগগিরই উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প হবে এ অঞ্চলে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-কম্পন বিষয়ক গবেষণা ও ভূ-তত্ত্ববিদদের মত অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূ-কম্পন বলয়ে অবস্থিত।

ইরানের তেহরান শহরের পরই ঢাকার অবস্থান। ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগ বিশ্বের ২০ টি ভূমিকম্পপ্রবণ শহরের তালিকা তৈরি করেছিল। তার মধ্যে ঢাকা ছিল অন্যতম।

ভূমিকম্প মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুবই অপ্রতুল। প্রলয়ঙ্করী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখন থেকেই যথাযথ ভাবে গ্রহন করতে হবে।

সেই সাথে জনগনের মধ্যে ভূমিকম্পের ক্ষয়-ক্ষতি ও ভূমিকম্পের করনীয় সম্পর্কে সচতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়জনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

গঠন করা যেতে পারে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এবং ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে আগে থেকেই ব্যব¯থাপনা কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন দিতে হবে এবং শহর এলাকায় বিল্ডিং কোড মেনে ঘরবাড়ি নির্মান করতে বাধ্য করতে হবে। ফয়সাল আহমেদ

এমএ