নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশু, পরীক্ষার্থী, হার্টের রোগী, পথচারীসহ আমরা সকলেই শব্দদূষনের বিরুপ প্রভাবের শিকার। এমনকি পশুপাখিও। পরিবেশের ভারসম্যতা নষ্ট হচ্ছে। শব্দের দূষণ প্রতিরোধে এর আইন সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রতিকারের জন্য স্কুল পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ে ”শব্দদূষণ” বিষয়ক একটি অধ্যায় অন্তর্ভূক্ত করা জরুরি।
সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে পিরোজপুর জেলার সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প”এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম শামিম এর সভাপতিত্বে ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির লেকচারার আব্দুল্লাহ আল নাঈম এর সঞ্চালনায় এ মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক খলিলুর রহমান, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মল্লিকা রানী মন্ডল, সরকারি স্কুলের শিক্ষক শিমুল মল্লিক, সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রী মহুয়া আফসারী তিথি, পিরোজপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মজনু তালুকদার, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট পিরোজপুরের সেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, স্কুল কলেজ থেকেই শিক্ষার্থীদের সচেতন রাখতে হবে। মোটরযানের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর মাইক ছাড়াও প্রচারনার কাজ সম্পন্ন করা যায়। সচেতনতার পাশাপাশি শব্দদূষণ রোধে আইন প্রয়োগই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম শামিম বলেন, জোরে হর্ন না দিলে শহরের মানুষগুলো শুনতে পায় না। শব্দের দূষণের কারনে আমাদের কানের সেলগুলো নষ্ট হচ্ছে। এখনো গ্রামের মানুষের শ্রবন শক্তি শহরের মানুষের তুলনায় অনেক ভাল। শব্দদূষণ আইন বাস্তবায়নে আমাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নিদেন পক্ষে অটোরিক্সার হর্ন বাদ দিয়ে যদি বেল সিস্টেমে চালকদের অভ্যস্ত করা যায়, তাহলে অনেকটা দূষণ কমতে পারে।
শ্রমিক লীগের সভাপতি মজনু তালুকদার, আমাদের শুধু জেলা শহরে কাজ করলে হবে না। সচেতনার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়েও কাজ করতে হবে।
সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রী মহুয়া আফসারী তিথি, আমাদের কলেজ রাস্তার পাশে। শব্দদূষনের কারনে পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটে; মাথা ব্যাথা করে। পরে অনেক শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হই।
মল্লিকা রানী মন্ডল বলেন, শিশু, পরীক্ষার্থী, হার্টের রোগী, পথচারীসহ আমরা সকলেই শব্দদূষনের বিরুপ প্রভাবের শিকার। এমনকি পশুপাখিও। পরিবেশের ভারসম্যতা নষ্ট হচ্ছে। শব্দের দূষণ প্রতিরোধে এর আইন সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রতিকারের জন্য স্কুল পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ে ”শব্দদূষণ” বিষয়ক একটি অধ্যায় অন্তর্ভূক্ত করা জরুরি।
বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত টিম বরগুনা শহরে শব্দদূষণের মাত্রা জানতে ৫ স্থানের সাউন্ড লেভেল মিটার স্থাপন করে। এ মেশিনটি প্রতি এক মিনিট পরপর তথ্য দেবে। যার মাধ্যমে শব্দদূষণের ২৪ ঘন্টা মাত্রা জানা যাবে।
এর আগে ঢাকা থেকে আগত ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেড এবং বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর ৬ সদস্যে একটি দল পিরোজপুর শহরের পাঁচটি জোনে (রেসিডেনশিয়াল এরিয়া, সাইলেন্ট এরিয়া, সাইলেন্ট মিক্স এরিয়া , ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও কমার্শিয়াল এরিয়া) শব্দের মাত্রা পরিমাপের জন্য একটি করে নয়েজ মনিটরিং মিটার স্থাপন করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্পটির মাধ্যমে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রতিটি জেলা শহরে শব্দ মাত্রা পরিমাপের বিষয়ে সমীক্ষা ও সচেতনতামূলক মতবিনিময়ের এই কাজে সহযোগিতা করছে ই কিউ এম এস কনসাল্টিং লিমিটেড এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।





