প্রশ্নটা একটু কঠিন হলেও এমন একজন শিক্ষিত মানুষকে প্রশ্নটি করতেই হলো। প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আজ ১১ জুলাই এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, যারা জয় বাংলা না বলে উর্দু শব্দ 'জিন্দাবাদ' ব্যবহার করেন, তারা পাকিস্তানে চলে যেতে পারেন।

একটি শ্লোগান তাও যদি উর্দুতে দেয়, তাদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জয় প্রশ্ন তুলতেই পারেন। কারন তিনি তো জাতির পিতা! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের দৌহিত্র। তিনি যে কোনো প্রশ্ন তুলতেই পারেন।

আরেকটি খুব মজার কথা বলেছেন জয়, সেটি হলো- বিএনপির নেতারা নাকি লেখাপড়াই জানেন না। যারা এ দলটির সমর্থক তারা হয়তো কিছু লেখাপড়া জানে বলে এই মহাজ্ঞানী হার্ভার্ডের তিনমাসের কোর্স করা সাবেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন। সঙ্গে যোগ করেন, কিন্তু দেখা গেলো বিএনপির লোকজন একটি ওয়ানের অংকও বোঝেন না।

যে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলছিলেন, সেখানে উপস্থিত অধিকাংশই ছিলেন নতুন প্রজন্মের নাগরিক। কাউকে কাউকে হাসতে দেখা গেছে। আমিও এমন বক্তব্য শুনে হেসেছি। এই হাসির জায়গা থেকেই প্রতিক্রিয়া জানালাম।

প্রথম কথা হলো- মি. জয় নিজের দলের উদ্ভব ও শাব্দিক অর্থ জানেন কিনা? যদি জানেন তাহলে পাকিস্তানের ভিসা উনি কি বক্তৃতা দেয়ার আগেই করে রেখেছেন? কারন যদি শ্লোগান উর্দু শব্দ জিন্দাবাদ ব্যবহার করে পাকিস্তান চলে যেতে হয়, তাহলে যেই দল নিয়ে রাজনীতি করছেন জয় ও তার মা শেখ হাসিনা সেই আওয়ামী লীগ-এর দু'টো শব্দই বিদেশী। আর জয়ের কথা অনুযায়ি এই বিদেশ প্রেম নিয়ে ওনারা বাংলাদেশে রাজনীতি করবেন কিভাবে?

কেননা ‌'আওয়ামী' উর্দু শব্দ। যার অর্থ 'জাতীয়'। আর ‌'লীগ' ইংরেজী শব্দ। যার অর্থ পার্টি বা দল। এ দু'টো শব্দের অর্থ হয় জাতীয় পার্টি (অর্থাৎ, এরশাদ চাচার দল)।

যেহেতু এরশাদ চাচা এমন একটি দল নিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করছেন, শেখ হাসিনার বদান্যতায় এরশাদ চাচার প্রথম স্ত্রী ওই দল নিয়ে বিরোধী নেতা হিসেবে সংসদে আছেন; সেহেতু বিদেশী শব্দের বিশেষ করে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দুর সম্মিলনে গঠিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে থাকার-ই-তো কোনো নৈতিক সুযোগ পাওয়ার কথা নয়।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিজের মন্তব্যের সূত্র ধরে এমন দাবি কেউ করতেই পারে, পাকিস্তানের প্রেতাত্মা বহনকারী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হোক। আর হয়তো সজীব ওয়াজেদ জয় তার মাকে নিয়ে পাকিস্তানে চলে যেতেই পারেন, এটা তার হয়তো কোনো প্রস্তুতি থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সেখানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদাই পাবেন।

দ্বিতীয়ত : জয় সাহেব বললেন, বিএনপির লোকজন এতো লেখাপড়া কম জানেন যে, ক্লাস ওয়ানের অংকই বুঝেন না। এসব কথা বলে নিজেকে হাস্যকর ব্যক্তি হিসেবে জনগণের সামনে পেশ করার কোনো মানে নেই। বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ এখন বিএনপিকে সমর্থন করে। তাদের সবাইকে মূর্খ বলার মতো স্পর্ধা আপনার রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে ধ্বংস করার তৎপরতা ছাড়া কিছুই না।

(বি. দ্র. কেউ আঘাত পেলে দুঃখিত। আপনারা আমার ওপর না ক্ষেপে সজীব ওয়াজেদ জয়কে একটু ভেবে-চিন্তে যৌক্তিক কথা বলতে পরামর্শ দিন। কারন জয়ের ভবিষ্যত আছে। ইনু-কামরুলের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ফেলার তার কোনো দরকার আছে কী?)

লেখক: সাংবাদিক