সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। যা কিছু দেখেছি এই মিডিয়া অঙ্গনে, তারই কিছু অংশ তুলে ধরছি আজ। কিছুদিন আগে আমার এক সহকর্মী আক্ষেপ করে একটা কলামে লিখেছিলেন-
আমরা পত্রিকার পাতায় প্রায়ই দেখি- "ছাত্রনেতার হামলায় দুই সাংবাদিক গুরুতর আহত" কিন্তু শিরোনামটা কি এমন কখনো হবে না - "সাংবাদিকদের গণপিটুনিতে দুই ছাত্রনেতা আহত"?
"হাউজ পলিসি" বলে একটা ওয়ার্ড আছে এখানে। জনতা কী চায়, নট ফ্যাক্ট। হাউস কী চাচ্ছে সেটাই মুখ্য।
জনগনের কল্যানের জন্য যদি রাজনীতি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে রাজনীতিবিদ সাংবাদিক হতে পারে। কিন্তু পেটনীতিবিদ কখনো সাংবাদিক হতে পারে না। সাংবাদিক হতে হলে অবশ্যই জনগনের কথা বলতে হবে।
"হাউজ পলিসি" নিয়ে কিছু কথা বলতে হয়। বর্তমানে সাংবাদিকতা করতে হলে হাউস পলিসি ম্যানেজ করে নিতেই হবে। একটাই নিউজের বিভিন্ন ভাষা আপনাকে জানতে হবে। যে হাউজ যেভাবে চায়, সেই ভাষা ইউজ করতে হবে।
যেখানে যা ঘটে, সাংবাদিকরা হুবুহু তাই তুলে ধরে। কেউ অতি রঞ্জিত করে। কেউ সাদামাটা লিখে। সবই হয় হাউজ পলিসি অনুযায়ী।
শব্দ নিয়ে খেলা কখনো দেখেছেন? সাংবাদিকদের আর্টিকেল গুলোতে শব্দের খেলা জমে বেশ। আমি কলামিস্টদের লেখা গুলোতে একই বিষয়ে শব্দের খেলা গুলো বেশ উপভোগ করি। কেউ কিন্তু নিজস্ব ভাষা ইউজ করে না। শুধু শব্দের এদিক সেদিক করে খেলা চলে।
সাংবাদিকরা যখন কোন অফিসে যায়, চেয়ার ছেড়ে দিয়ে মহা আপ্যায়ন করে বাইরে লাঠি নিয়ে ওয়েট করতে থাকে সালা কখন বের হবে। কোন ক্লু পেলেই পাইকারি মার কমন আইটেম।
এক রিপোর্টারের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিতে দেখেছি ক'দিন আগে। সাংবাদিক মারধরের হাজারোও ঘটনা আছে। এভাবে কি চলতেই থাকবে?
প্রথমেই বলছি, সাংবাদিকদের নিজস্ব ভাষা নেই। জনগনের ভাষাও আজ বাজে না। বাজে হাউজ পলিসির ভাষা। দলীয় এজেন্ডা নিয়ে সাংবাদিকতা হয় না। এতে সংবাদ কুলষিত হয়। প্রিজারভেটিভ আর ইনফেকশন জনিত সংবাদ প্রাচার হওয়ার একমাত্র কারণ দলীয় এজেন্ডাবহ সাংবাদিকতা।
একটা রিপোর্ট দেখে সাংবাদিক কোনপন্থী নির্ণয় করি। সাংবাদিক কোন পন্থী নির্ণয় না করে সংবাদ সত্য কিনা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল।
এই সিস্টেমের পরিবর্তন কি আদৌও হবে না? সাংবাদিকদের স্বাধীন করে দেন না! রাজনীতিবিদ ট্যাগ দিয়ে পরিসর ছোট করে দেয়ার তো কোন মানে হয় না!
বিশ্বাস করেন! সাংবাদিকদের স্বাধীন করে দিলেও এরা নিজস্ব কথা বলবে না। এরা জনতার কথাই বলবে। এদের তো নিজস্ব ভাষা বলার অধিকারই নেই।
ছোট্ট একটা কথা দিয়েই লেখাটির পরিসমাপ্তি টানছি-"সাংবাদিকরা অনেক কথা বলে। তবে জনতার ভাষায়"
(বি. দ্র.মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)
হাবীব জামিল
[email protected]
এআই





