বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে জাতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অহংকারী মনোভাব থেকে বের হতে পারেন নি।
এছাড়াও দেশের মানুষ যখন লতিফ সিদ্দিকীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছে। সেই বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেন নি। যাতে আমরা মনে করি এর মাধ্যমে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। যদিও দেশের মানুষ লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পরিষ্কার বক্তব্য আশা করেছিল।
তিনি বলেন, আমরা বিস্মিত হই যখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কার সঙ্গে আলোচনা করব? দূর্নীতিবাজদের সঙ্গে’। তখন তার মনে করার উচিত ছিল তার সরকারের দূর্নীতির কারণে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ব্যাংক থেকে, শেয়ার মার্কেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়েছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ‘খুনীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না’ এর তীব্র সমালোনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ৫ জানুয়ারির আগে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে। ৬৫ জনকে গুম করেছে। তাই তাদের মুখে অন্যকে খুনী বলা শোভা পায় না। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল বহরের সমালোচনা করে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের দিকে দেখুন, জনগণের পূর্ন সমর্থন নিয়ে তিনি জাতিসংঘে গিয়েছেন আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৮৪ জনের বিশাল বহর নেয়ার কারন হচ্ছে তার জনসমর্থন শূণ্যের কোটায়।
বিএনপির সঙ্গেই সংলাপ করতে হবে এমন দাবী করে তিনি বলেন, সংলাপ না হলে অতীতের ন্যায় সংঘাতের সৃষ্টি হবে। যার খেসারত সরকারকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের কোন বৈঠক হয়নি শুধু মাত্র ৫ মিনিটের ফটো অপরচুনিটি হয়েছে। যাকে বৈঠক বলা যায় না। অথচ পররাষ্ট্র মন্ত্রী এইচ এম মাহমুদ আলী এ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ঈসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার পরও রাষ্ট্রদূতকে আপ্যায়ন করে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত চরম অন্যায় করেছেন। যদিও গাজায় গণহত্যার সময় আওয়ামী লীগ তীব্র প্রতিবাদ করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক শফিক রেহমান।
এমএইচ





