নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, “আমি আমার শহরের লিডার। আই অ্যাম অ্যা ফাইটার, আই অ্যাম অ্যা লিডার। আমার ফুটপাত দিয়ে আওয়ামী লীগ হাঁটবে, বিএনপি হাঁটবে এবং আমার ফুটপাত দিয়ে জনগণ হাঁটবে। এটা সকলের অধিকার। আমি যখন ট্যাক্স নেই তখন সবার কাছ থেকে নেই।”
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর বেসরকারি ল্যাবএইড হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইভীসহ অনেকেই আহত হন। এ ঘটনার দু’দিন পর বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জ নগরভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন মেয়র আইভী। পরে তাকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা শেষে আজ সাংবাদিকদের সামনে এসে সেলিনা হায়াৎ আইভীবলেন, “সশস্ত্র আক্রমণ থেকে নিরস্ত্র লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাকে রক্ষা করেছেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের বোন, আপনাদেরই একজন। আমি জীবনে কোনোদিন এত ভালোবাসা পাইনি। আমার আর কিছু পাওয়ার নেই। একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমি অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমার নেত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।”
তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ নেই। দেশসেবা করতে আমি নিউজিল্যান্ড থেকে চলে আসি। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির পর ২০০৩ সালে ক্যান্ডিডেট হয়ে আমি পাস করেছিলাম। আমি শেখ হাসিনার পরীক্ষিত সৈনিক। আমাকে বারবার পরীক্ষা দিতে হবে না। আমি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী।”
আইভীবলেন, “একজন মেয়র হিসেবে আমি নারায়ণগঞ্জের সকলের লিডার। আমি আমার শহরের লিডার। আই অ্যাম অ্যা ফাইটার, আই অ্যাম অ্যা লিডার। আমার ফুটপাত দিয়ে আওয়ামী লীগ হাঁটবে, বিএনপি হাঁটবে এবং আমার ফুটপাত দিয়ে জনগণ হাঁটবে। এটা সকলের অধিকার। আমি যখন ট্যাক্স নেই তখন সবার কাছ থেকে নেই। সিটি লিডার হিসেবে আমি সবার মেয়র।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি শেখ হাসিনার এক ক্ষুদ্র কর্মী। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী। আমি আলী আহম্মদ চুনকার সন্তান। এই আমার পরিচয়। সকল কিছু আমার জনগণ, নারায়ণগঞ্জের জনগণ। যেই জনগণের জন্য আমি বেঁচে আছি, এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি।”
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ নগর ভবন থেকে বের হয়ে নগরীর বঙ্গবন্ধু রোডের ফুটপাত দিকে হাঁটতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেশ কিছু সমর্থক ছিলেন। পুলিশও তাঁদের সঙ্গে থাকে।একপর্যায়ে আইভীর সমর্থকরা ফুটপাতে হকারদের বসতে নিষেধ করলে প্রথমে হকাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
তখন হকারদের সঙ্গে আইভীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। চাষাঢ়া এলাকায় শামীম ওসমানের সমর্থকরা হকারদের সঙ্গে যোগ দেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হকার ও শামীম ওসমান সমর্থকদের হামলার মুখে মেয়র আইভী বঙ্গবন্ধু সড়কে অনড় অবস্থান করেন। এ সময় তারা মেয়র আইভীর ওপর হামলা চালালে সমর্থকরা মানবদেয়াল তৈরি করে তাঁকে ঢেকে রাখেন। এ সময় তাদের ছোড়া ঢিলে মেয়র আইভী আহত হন।
পরে হকারদের সমর্থনে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান রাজপথে নেমে আসেন। তিনি হকারদের পক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থান করেন। এ সময় আহত আইভী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে অবস্থান নেন। পুলিশ প্রায় ৩০০ ফাঁকা গুলি ও বেশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মুস্তাঈন





