সরকারের মদের লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে অ্যাডভোকেট ড. মো: হেলাল উদ্দিন ও মুহা দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামছুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, যুব নেতা কামাল হোসাইন প্রমুখসহ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন থানার আমীর, সেক্রেটারি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মিছিলোত্তর প্রতিবাদ সমাবেশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মদের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। মদের লাইসেন্স দিয়ে একটি জাতিকে বেশামাল করার চক্রান্ত এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। এই সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে যুব সমাজকে বেসামাল করে দিতে চায়, একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য তারা পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, একদিকে বইমেলায় ইসলামী বই প্রদর্শন ও বিক্রি অলিখিত আইনের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে যুব সমাজকে মদ, মাদকতা ও বিকৃত কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। দেশপ্রেমিক জনতা, যুব সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত কখনো মেনে নিবে না। অবিলম্বে ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা মদের অবাধ লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় দেশপ্রেমিক জনতা তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবে।

তিনি আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবন স্থবির হতে চলেছে। চাল, ডাল ও তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে অথচ এদিকে সরকারের কোনো দৃষ্টি নেই। সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও তারা মদের অবাধ লাইসেন্স দিয়ে সমাজে অরাজকতার সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। যারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের পরিবর্তে নতুন করে আরো সমস্যা আমাদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এমআর