১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর পরিবেশ-পরিস্থিতি ছিল অনেক প্রতিকূল এবং তখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ছিলেন জেলে, যার ফলে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিহতের সংবাদটি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে জানা হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য নূহ উল-আলম লেলিন টাইমনিউজবিডিকে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার দুই কন্যাকে এই সংবাদ না জানানোর যে কথা জানিয়েছেন তা অনেকটাই সঠিক। সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি তখন প্রতিকূল ছিল। তার ফলেই বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের মৃত্যু সংবাদটি শেখ হাসিনা কিংবা শেখ রেহানাকে জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে জানার মতোও তখন তাদের মানসিক অবস্থা ছিল না। এবং তারা তো ইংরেজি অধ্যুষ্যিত এলাকায় ছিল না। ছিল না এখনকার মতো এত উন্নত প্রযুক্তি, মিডিয়াও। তারা ভেবেছিল, সবাই বেঁচে ছিল। সকলেই যে মারা গেছেন তা জেনেছেন ভারতে এসে, ইন্ধিরা গান্ধী তা শেখ হাসিনাকে নিশ্চিত করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, একজন মানুষকে তার বাবার হত্যার বিষয়টি বলা হয়েছে। এমন শোকাতুর অবস্থায় আর কিভাবে বলা যায় যে তার পরিবারের কেউই বেঁচে নেই, সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাই শেখ হাসিনার এমন শোকের সময় তার পরিবারের সবার হত্যার বিষয়টি গোপন রেখে শুধু তার বাবার হত্যার বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির টাইমনিউজবিডিকে বলেছেন, সেই সময় বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা গভীর শোকাহত ছিলেন। আর তিনি যা বলেছেন তা তাতো মিথ্যা বলেননি? তিনি যা বলেছেন তা সত্য বলেই ধরে নিতে হবে। এ নিয়ে বিরুপ বিতর্কের, আলোচনার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।
তিনি আরো বলেন, সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সপরিবারে হত্যার বিষয়টি তার কাছে প্রথমে গোপন করা হয়েছিল। এরপর প্রায় বিশ দিন পর পরিবারের সবার হত্যার বিষয়টি তাকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সায়ীদ টাইমনিউজবিডিকে বলেছেন, আমি যটুকু জানি তাদের জানানো হয়নি। কারণ নেতাদের অনেকেই তখন জেলে। নানা হয়রানির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তখন পরিবেশটাই সম্পূর্ণ প্রতিকূল। রাষ্ট্রদূতেরা জানলেও তাদের বলা বারণ ছিল, যাতে কোনোভাবেই এ বিষয়ে তারা না জানে।
ইআর/এমবি





