জাতীয় পার্টির শীর্ষ দুই নেতা, সম্পর্কে দেবর-ভাবী রওশন এরশাদ এবং জি এম কাদেরের দ্বন্দ্ব না মিটলে বড় সংকটে পড়বে জাতীয় পার্টি। তবে এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের ফিরে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত জাতীয় পার্টি না ভাঙলেও কিছু নেতার বড় দলে যুক্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ হাসপাতালে ভর্তি হবার পর থেকেই জাতীয় পার্টির কি হবে তা নিয়ে প্রশ্ন সবার মনে। দলটি কি ভেঙে যাবে? নেতাদের প্রায় প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব কি মিটবে? না আরো জোরদার হবে?

দলের সাবেক মহাসচিব এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু বলছেন, দল আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে। তিনি আরও বলেন, আজ তিনি থাক না থাক, তিনি যে সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছে সেটাকে সন্মান করা দলের প্রতিটি নেতা কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব। উনি কাকে দায়িত্ব দিয়েছেন বড় কথা নয়। উনার সিদ্ধন্তটাকে আমরা সন্মান করবো।

আর বর্তমান মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলছেন দল থেকে বিভিন্ন সময় বের হয়ে যাওয়া নেতাদের ফিরিয়ে আনতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। আর, দেবর-ভাবীর যে দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায় তা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, দল থেকে যারা চলে গেছে তারা হয়তো ফেরত আসবে। আমি চেষ্টা করছি। জিএম কাদের এবং রওশন এরশাদের মধ্যে একটু মনোমালিন্য আছে। মনোমালিন্য কিছু নয়। ওনাদের সম্পর্ক অনেক কাছের। দেবর-ভাবীর সম্পর্ক।

দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুনীরুজ্জামান মনে করেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে এধরনের দলের গুরুত্ব রয়েছে। ফলে কিছু নেতা দল থেকে বের হয়ে গেলেও জি এম কাদের এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি টিকে যাবে। তিনি বলেন, 'আদৌ দলটি শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা। সংসদীয় গনতন্ত্রে  আসনের সংখ্যা দিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিক হয়। সুতরাং অনেক সময় এদরেকে সেই কাজে লাগানো হয়। সে কারণেই এ দলগুলির অস্তিত্ব অনেক সময় বড় দল গুলো টিকিয়ে রাখে।

তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দলে তেমন কোনো ভাঙাগড়া দেখা যাবে না বলেই মনে করেন তিনি।

এসএম