আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি মনে করি, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে না থাকলে হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন হতো।’
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফজিলাতুননেছা মুজিব-এর জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অনেক ছোট থেকেই তাকে (বঙ্গমাতা) কাছ থেকে দেখেছি। আমরা তখন ময়মনসিংহ থাকতাম। প্রতিবছরই ঢাকায় আসতাম। ঢাকায় আমাদের বাড়ি-ঘর ছিল না। আমরা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে উঠতাম। তিনি আমাদের ভাই-বোনদের কামাল ভাইয়ের মত, নেত্রীর মত সমভাবে দেখতেন।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন জেলে ছিলেন, আওয়ামী লীগ ভেঙে ৬ দফা আওয়ামী লীগ, ৮ দফা আওয়ামী লীগ, ভাসানী আওয়ামী লীগ হয়েছিল। এমনকি স্বাধীনতার পরে জাসদের জন্ম। সেই সকল দুর্যোগের সময় ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধা, দৃঢ়চেতা মানুষ ছিল। আমি মনে করি, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে না থাকলে হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন হতো।’
জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি আমার মায়ের মত। আমার মা তার ছোট বোনের মত ছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ এত বড় পরিবার ছিল না। ছোট একটা পরিবার। সামরিক শাসক আয়ুবের যাঁতাকলে ছিল। তখন রাজনীতি করা ও এর চিন্তা করাটাই ছিল দুরূহ ব্যাপার। সেই পরিবেশে বেগম বঙ্গবন্ধুর সকল কাজে সহযোগিতা করেছেন এবং সাহস যুগিয়েছেন। এবং সেই পরিবেশে থেকেও সব কিছুর পাশাপাশি তিনি নিজের ছেলে মেয়েদের মানুষ করেছেন। তাদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু জেলে। তিনিই ছিলেন, তার সন্তানদের অবিভাবক। তিনি ছেলে মেয়েদের মায়ের প্রয়োজন সেটাও মিটিয়েছেন, বাবার দায়িত্বও পূরণ করেছেন।’
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন নেতারা।
এএইচ





