সারাদেশে জামায়াত ও শিবিরের ৩ নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এরা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের তথ্য সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবির সভাপতি সাহাব পাটোয়ারী ও সাতক্ষীরায় জামায়াত কর্মী শহীদুল ইসলাম

রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাটাখালি বাজারে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের তথ্য সম্পাদক শাহাবুদ্দিন নিহত হয়েছেন। তিনি ক্রপ সায়েন্স বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাটাখালি বাজারে শিবিরের তথ্য সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, বিনোদপুর মেস শাখার সভাপতি মফিজুর রহমান ও শহীদ হবিবুর রহমান হল সভাপতি হাবিবুর রহমান মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় কাটাখালি পৌরসভার সামনে তাদেরকে আটক করে মতিহার থানা পুলিশ।

আটক করার পর তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাত আড়াইটার দিকে একজনকে মৃত ও বাকি দুজনকে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রামেকে ভর্তি করে পুলিশ। তবে বাকি দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের প্রচার সম্পাদক ফরহাদ রেজা বলেন, রাত পৌনে ১০ টার দিকে কাটাখালি বাজার দিয়ে আসার সময় পুলিশ তাদের আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তাদের পরিবারসহ আমরা বারবার তাদের অবস্থান জানতে চাইলে পুলিশ তাদেরকে আটক করার কথা অস্বীকার করে। পরে রাত আড়াইটার দিকে রামেকে শাহাবুদ্দিন ভাইকে তারা মৃত ও বাকি দুইজনকে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি করে।

মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, কাটাখালি পৌরসভার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের উপর তারা ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় মাহবুব নামের এক কনস্টেবলকে পেছন থেকে রড দিয়ে আঘাত করে। দুর্বৃত্ত বুঝতে পেরে পুলিশ তৎক্ষণাৎ গুলি করে। তখন একজন সেখানে মারা যায়, আর বাকি দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে রামেকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

কুমিল্লা: চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবির সভাপতি সাহাব পাটোয়ারী (২৪) লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাওয়া গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে তাকে পৌর এলাকায় চান্দিশকরা নিজ বাসা থেকে সাদা পোশাকদারী পুলিশ নিয়ে যায়।

বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী মা ছাকিনা বেগম নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে তার লাশ অজ্ঞাত লাশ হিসাবে কে বা কারা ফেলে রাখে।

এ বিষয় চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমারকে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

যশোর: যশোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী নিহত হয়েছেন, যিনি আগের দিন ধরা পড়ার পর পুলিশ ভ্যান থেকে পালিয়েছিলেন।

নিহত শহীদুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মৃত নূর আলী সোনার ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে রামনগর পিকনিক কর্নার এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন বলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানিয়েছেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ রুহুল আমিন জানান, হাসপাতালের মর্গে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। তবে তিনি বিস্তারিত জানেন না।

এদিকে, বগুড়ায় পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী রবিউল ইসলাম (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোকুল এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

রবিউল পুলিশ হেফাজতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান বগুড়া পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গাজিউর রহমান সাগর।

তিনি বলেন, রবিউল নামের এক শিবির কর্মী মহাসড়কে ত্রিফলা কাঁটা ফেলে পালানোর সময় টহল পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি করলে তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহতাবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে।

জেএ