২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।

শুক্রবার বাজেটের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এক বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৪ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ১ শত কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। এ বাজেটটি ৮৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ নির্ভর বাজেট। বৈদেশিক অনুদানসহ নীট বাজেট ঘাটতি ৮০ হাজার ৮ শত ৫৭ কোটি টাকা। ৫ হাজার ৮ শত কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান বাদ দিলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়ায় ৮৬ হাজার ৬ শত ৫৭ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৬ হাজার ৫ শত ২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে ৩৮ হাজার ৫ শত ২৩ কোটি টাকা। আর ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ঋণ নেয়া হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিক বাজেটে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতকরা ১০ ভাগ মূল্য সংযোজন করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাব বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল পশ্চাদপদ দেশের জন্য আত্মঘাতী।"

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, "যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল, সেখানে সরকার তা না করে মূল্য সংযোজন করারোপের মাধ্যমে শিক্ষা সংকোচন নীতিই গ্রহণ করেছে। যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো পেছনে ঠেলে দিবে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ কম রাখা হয়েছে।

"প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের দরিদ্র জনগণের উপর করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। ৪১ হাজার ৫ শত ৬৮ কোটি টাকার নতুন করসহ ১ লক্ষ ৮২ হাজার ২ শত ৪৪ কোটি টাকার কর চাপবে জাতির ঘাড়ে।  

"বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষিখাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও কৃষকের ভর্তূকির পরিমাণ এক টাকাও বাড়ানো হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প ধ্বংস করার প্রবণতা বিদ্যমান। বাজেটে ৩০ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা অর্জন অসম্ভব বলে অর্থনীতিবিদগণ মন্তব্য করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী জাতিকে অপার সম্ভাবনার স্বপ্ন ও যে সব আশার বাণী শুনিয়েছেন বাস্তবতার নিরীখে তা অর্জন করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কোন নির্দেশিকা আসেনি।

প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের বেশীর ভাগ খরচ হবে পূর্বের ঋণ পরিশোধ, সরকারী প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ, বিলাস দ্রব্য আমদানি, অপচয়-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস ও কর রেওয়াতের নামে ধনিক শ্রেণীকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে।

বাজেটের বিভিন্ন দিক সামনে আনলে এ কথা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয় যে, সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে দলীয় ও আজ্ঞাবহ প্রশাসন লালনের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার আয়োজন করেছে। মূলতঃ জনগণের ওপর শোষণ ও জুলুম চালিয়ে নিজেদের আখের গোছানোই প্রস্তাবিত বাজেটের মূল লক্ষ্য।”

জেডআই