প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আলামত তড়িঘড়ি করে মুছে ফেলেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার।
আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরনে আয়োজিত সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সেই মুহুর্তের কথা মনে করা যায় না। মনে হচ্ছিল যেন কেয়ামত হচ্ছে। এতগুলো গ্রেনেড হামলা হলো অথচ সেখানে কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল না।
ওই সময়ে নিজের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার চশমাটা হারিয়ে গিয়েছিল। চোখে ভালো করে দেখছিলাম না।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ওই হামলায় প্রায় হাজার খানেক নেতা-কর্মী আহত হন। এখনো অনেকেই গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন।
ন্যাক্কারজনক ওই হামলার পর আহত নিহতদের পাশে দাড়ানো তো দূরের কথা তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার সময় পুলিশ নির্মমভাবে লাঠিচার্য করেছিল বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, কোন ধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা তো নেয়া হয়নি; বরং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে সেই জায়গা কর্ডন করা রাখা উচিত ছিল। এমন কী তাজা একটি গ্রেনেড পড়েছিল। কিন্তু তাও সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। আলামত সংরক্ষণের কোনই ব্যবস্থা ছিল না ।
আমরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা করতে দেয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া একটি অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করেছিলেন। তা হলো গ্রেনেড নাকি বেনিটি ব্যাগে করে নিয়ে আসা হয়েছিল।
তেরটি গ্রেনেড বহন করার মতো এতবড় ব্যাগ আমি কিভাবে বহন করলাম-খালেদা জিয়ার প্রতি এমন প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ওই হামলা দোষীদের চিহ্নিত করতে তৎকালীন সরকার কোন উদ্যোগ নেয়নি।
এর আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদেরর স্মরণে শহীদদের বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিহদের স্মরণে নির্মিত বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ থেকে নামার সময় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। পর পর ১৩টি গ্রেনেড ছোড়া হয়।
ঢাকা, ২১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





