পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, সিলেট, নীলফামারী, নোয়াখালী, ঢাকা মহনগারী এবং চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার গ্রেফতার ও নির্যাতন চালিয়ে শক্তির জোরে অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার অসৎ উদ্দেশ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে।
৯ অক্টোবর পুলিশ পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর জনাব আবদুস সালাম খান, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা মুফিদুল ইসলাম, সিলেট মহানগরীর বিমানবন্দর থানা জামায়াতের সেক্রেটারী এড. আজিম উদ্দিন, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌরসভা জামায়াতের আমীর জনাব মোস্তাকিমসহ জেলার ৫ জন নেতা-কর্মীকে, নোয়াখালী জেলার সেনবাগ পৌরসভা জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মোঃ হানিফ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের রুকন আ: গফুর এবং বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রসিদ খানের পুত্র মোঃ ত্বহা ও পুত্রবধু ফৌজিয়া বেগম, ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কর্মী মুক্তা আক্তারকে ও ৮ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী এমদাদুল্লাহকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের গ্রেফতার ও জুলুম থেকে গৃহবধূ এবং ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না। সারা দেশে গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে সরকার দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
সরকার দেশের জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চাপিয়ে দিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গণবিচ্ছিন্ন সরকার জনসমর্থন হারিয়ে জোরপূর্বক ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্র করছে। জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অতীতে যেমন কোন সরকার টিকে থাকতে পারেনি, তেমনি বর্তমান সরকারও বেশী দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর জনাব আবদুস সালাম খানসহ সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এদিকে অপর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, বিরোধী দলের কোন কর্মসচী না থাকা সত্ত্বেও জামায়াতসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিনা উস্কানীতে গণহারে গ্রেফতার-নির্যাতন, জাতীয় নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিদেশী নাগিরক হত্যার দায়ভার বিরোধী দলের উপর চাপানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির আহবান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের অপরাজনীতি ও বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই দেশে সংঘঠিত সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য কোন প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিরোধী দলকে দায়ি করা হচ্ছে।
এমন কী ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার ও জাপানী নাগরিক হোসিও কোনিওকে অজ্ঞাত নামা সন্ত্রাসীরা হত্যা করলেও জাতিসংঘে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী এ হত্যাকান্ডের জন্য জামায়াত-বিএনপিকে দায়ি করেছেন। দেশে ফিরেও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুটনীতিকদের ব্রিফিংকালে অভিন্ন অভিযোগ করেছেন। যা দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি বলেন, সরকার দেশকে মেধা ও নেতৃত্বশুণ্য করতে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত লিপ্ত। সে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই দেশে কোন সরকার বিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচী না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতেই রাজধানীসহ সারাদেশে জামায়াতসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী নির্বিচারে গ্রেফতার করে জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যা সরকারের ফ্যাসীবাদী ও বাকশালী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের গণগ্রেফতারের ধারাবাহিকতায় গত এক সপ্তাহে রাজধানীর শাহ আলী থানা থেকে মোঃ সাইদুর রহমান, আব্দুল বারেক ও মোঃ সলিমুল্লাহ, মিরপুর পূর্ব থানা থেকে মহীউদ্দীন সরওয়ার ও আতিকুর রহমান, মিরপুর পশ্চিম থেকে তাজুল ইসলাম, দারুসসালাম থানা থেকে আব্দুল খালেক , পল্লবী থানা থেকে আব্দুল গফুর ও ফাতেমাতুজ্জাহরাসহ অনেক নেতাকর্মীকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মিরপুরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডাশনের কারারুদ্ধ কেন্দ্রীয় নেতা হারুন-অর-রশীদের পুত্রবধু, ছেলে ও তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে বাসা থেকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সাহজাহানপুর থেকে ৩ ছাত্রসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
কাফরুল থানার ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী, তার মা ও ১২ বছর বয়সী ভাইসহ গ্রেফতার করেছে। সরকার নারী অধিকারের কথা বললেও তারাই নারীদের প্রতি জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। পুলিশ মতিঝিল থেকে ১ জন ও খিলক্ষেত থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। মূলত নগরবাসী রাজপথে স্বাচ্ছন্দে চলতে পারছেন না। ফলে ঢাকা নগরী এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।
মাওলানা খান বলেন, সরকার জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে নিজেরাই জননিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন স্বৈর ও ফ্যাসী শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর আওয়ামী লীগেরও হবে না।
তিনি সরকারকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করে ২ বিদেশী হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দায়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, গণগ্রেফতার বন্ধ, আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও গ্রেফতারকৃত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দানের আহবান জানান। অন্যথায় জুলুমবাজ সরকারকে গণরোষর মুখোমুখো হতে হবে।
এমআর





