বিরোধীজোটের আপোষহীন সংগ্রামে দিশেহারা সরকার ক্ষমতা আকড়ে রাখতেই নিষ্ঠুর আতঙ্কবাদী শাসন চালাচ্ছে।
গুম-খুন-গণহত্যা-গণগ্রেফতারকে রাষ্ট্রীয় কর্তব্যে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর রফিকুল ইসলাম খান।
আজ রোববার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।
খান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদল নির্মূলের জন্য শক্তির পথ বেছে নিয়েছেন।্ গুম খুন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্মম রসিকতা করছেন। সাবেকমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্ধারের বিষয়ে আদালতের রুলের বিষয়ে সরকার নির্বিকার । ক্ষমতা ধরে রাখতে জনগনের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। এই সংঘাত দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে, ক্ষমতাসীনদেরই বা পরিণতি কি হতে যাচ্ছে শাসকগোষ্ঠী কে তা অনুধাবন করতে হবে।
সরকারের তীব্র বাঁধা, জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার সত্ত্বেও অবরোধ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে আজ মগবাজার, রমনা, পল্টন, মতিঝিল, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, বনানী, শাহজাহানপুর, কলাবাগান, ধানমন্ডি, ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও এলাকায় অবরোধ সমর্থনে জামায়াতের কর্মীরা মিছিল, পিকেটিং ও রাজপথ অবরোধ করে।
তিনি আরো বলেন, বিরোধীদলের আন্দোলন ঠেকানোর জন্য পুলিশ যখন দেখামাত্রই গুলি করছে, তখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলছেন , গুলি করে মারলে কষ্ট কম হয়। কতটা বিকৃত রুচির উম্মাদরা এখন দেশ চালাচ্ছে তা দেশবাসী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। এই দুঃশাসন থেকে উদ্ধার পাবার একটাই পথ, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার দাবীতে দেশবাসীকে একসাথে পথে নেমে আসতে হবে। জালেম সরকারের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জামায়াত নেতা আরো বলেন, পুলিশ বাহিনী এখন পতন উন্মুখ স্বৈরাচারের রক্ষায় খুনি বাহিনীর ভূমিকা পালন করছে। সিলেটে পুলিশের বাসা থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহৃত শিশু আবু সাইদের এ্যাসিডে পোড়া বস্তাবন্দী লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে পুলিশ-র্যাব নিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচেছ।
সারাবিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের যে গৌরব ছিল তা ভয়ানক রকম ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দখলদার সরকারের পতনের জন্য এখনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে রাজপথে নামতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধ লড়াই গড়ে তুলতে পারলে গনহত্যা, গুপ্তহত্যা ও গণতন্ত্রহত্যাকারী এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন সুনিশ্চিত।
প্রতিটি এলাকায় ২০দলীয় জোটের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটির মাধ্যমে সর্বাত্বক হরতালের পিকেটিংযে নিজ নিজ এলাকাকে মুক্তঅঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। জনতার রুদ্ররোষে দখলদার বাহিনীর আস্তানা ও গণদুশমনদের গুড়িযে দিতে হবে।
এসএইচ





