মায়া কান্না দেখাতে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে(ডিআরইউ) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভাটি আয়োজন করে দেশরত্ন সেবক পরিষদ।
হাসান মাহমুদ বলেন, সাত খুনের পর মায়া কান্না দেখাতে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিলেন বেগম খালেদা। সে সময় তিনি যাদের মাধ্যমে সাত খুনের ঘটনা ঘটেছিলো ‍তাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ দূরত্ব কম হওয়ার পরও পেট্রোল বোমা মেরে যাদের হত্যা করা হয় তাদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে যাননি। এর অর্থ হলো তিনি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান।
এ সময় তিনি বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানবাধিকারের ব্যানারে রাজনীতিতে জড়িত। এদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীরা ১৯৭১’র পরাজয়ের বদলা নিতে চেয়েছিলো। শুধু কতিপয় সেনাসদস্য না একটি আন্তর্জাতিক চক্রও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আর এ হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান। পিছন থেকে হত্যাকাণ্ডের কলকাঠি নেড়েছেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশে যে দলটি রাজনৈতিকভাবে সব থেকে বেশি সুফল পেয়েছেন তারা হলেন জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার। জিয়া যে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তার প্রমাণ দিয়েছেন হত্যাকারীদের পুরস্কার দিয়ে।
তিনি বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে নেমে দু হাত পেতে প্রার্থণা করেছিলেন খুনিদের যাতে বিচার হয় এবং বাংলাদেশ যাতে পাপ মুক্ত হয়। সৃষ্টিকর্তা শেখ হাসিনার সেই প্রার্থনা কবুল করেন। ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী দেশে আসেন। আর যেই সেনাবাহিনীর উপর ভর করে জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিলেন, সেই সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য ৩০ মে তাকে হত্যা করে। তার লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। জিয়ার পরিবর্তে ভিন্ন একটি লাশ এনে চন্দ্রিমা উদ্যানে কবর দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ আপোস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ আপোস করতো তা হলে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতেন। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও কারও সঙ্গে আপোস করেননি। এরশাদের সময় পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা এরশাদের সঙ্গে আপোস করেনি। এরপরও বহু ঘটনা ঘটেছে শেখ হাসিনা কোনো আপোস করেনি। কারণ শেখ হাসিনার সংগ্রাম সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের। সাধারণ মানুষের পক্ষে।
দেশরত্ন সেবক পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক এম এ করিম, আওয়ামী গীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায়, আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি ইলিয়াছ হোসাইন বিন হেলালী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।
[b]ঢাকা, ১৫ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]