মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙ্গালী বা মুসলিম সংস্কৃতি নয় বরং এটা হিন্দুদের সংস্কৃতি বলে অক্ষায়িত করেছে ওলামা লীগ। একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল কলেজে শোভাযাত্রা ‘বাধ্যতামূলক করার’ ঘোষণা বাতিলের আহ্বান আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো দলের সাধারন সম্পাদক মাওলানা মো: আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী স্বাক্ষরিত এক যুক্তবিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আখতার হুসাইন বুখারী, কার্যকরী সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, মাওলানা শওকত আলী শেখ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি, লায়ন মাওলানা আবু বকর সিদ্দীক, মাওলানা তাজুল ইসলাম।
বিবৃতিতে তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তির মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, ‘মঙ্গলপ্রদীপ, মঙ্গলাচরণ, মঙ্গল কাব্য প্রতিটি অনুষ্ঠানিকতা পুরোপুরি হিন্দুদের বিশ্বাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটা মুসলমান বা বাঙ্গালী সংস্কৃতি নয়।
তারা হিন্দুদের ধর্মীয় মত তুলে ধরে বলেন, হিন্দুদের মতে, শ্রী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে। তাই হিন্দুরা অশুভ তাড়াতে শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিনে তথা জন্মাষ্টমীতে প্রতিবছর সারাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে। অন্যদিকে মঙ্গলকাব্য হলো হিন্দুদের দেবদেবীর গুণকীর্তণ। তাই প্রতিটি মঙ্গলকাব্যে একেকজন দেবতার গুণকীর্তণ করা হয়েছে। এরা লৌকিক দেবতার সঙ্গে পৌরাণিক দেবতার সংমিশ্রণে সৃষ্ট বাঙালি হিন্দুদের নিজস্ব দেবতা। তাই মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা মুসলমানদের জন্য হারাম।
বিবৃতিদাতাগণ সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণের ঘোষণায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণে সর্বপ্রথম দাবি জানিয়েছে ওলামা লীগ। সেই দাবীর প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মূর্তি অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণার মাধ্যমে দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমানের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। আমাদের দাবির প্রতিফলন ঘটেছে সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন।
তারা বলেন, মূলত দেশের সব ধর্মীয় কাজের কৃতিত্ব ওলামা লীগের। কারণ এ যাবত সরকারের পক্ষ থেকে যতো ধর্মীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে তার দাবী জানিয়েছে ওলামা লীগ। পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়া, সিলেবাস, রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখা, ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিনে বিশ্বকাপ উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করাসহ বিভিন্ন দাবিগুলো সর্বপ্রথম ওলামা লীগই করেছে। সেটা বাস্তবায়নও হয়েছে।
তারা বলেন, পরিতাপের বিষয়, আমরা লক্ষ্য করছি যে, চিহ্নিত কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক সংগঠন বাহবা নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার প্রচারণা চালায়। প্রকৃতপক্ষে এসব কাজের কৃতিত্ব ওলামালীগের। কারন ওলামা লীগ এসব দাবীর মাধ্যমে সরকার এবং ধর্মপ্রান জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করেছে। ধর্মপ্রানদের আওয়ামী লীগে উদ্বুদ্ধ করছে।
আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বলেন, পহেলা বৈশাখ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধরনের পূজা ও উৎসবের দিন। এগুলো হলো-১) হিন্দুদের ঘটপূজা, ২) গণেশ পূজা, ৩) সিদ্ধেশ্বরী পূজা, ৫) চৈত্রসংক্রান্তি পূজা-অর্চনা, ৬) মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব, ৭) চাকমাদের বিজু উৎসব (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পূজা উৎসবগুলোর সম্মিলিত নাম বৈসাবি), ৮) হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপূজা, ৯) মজুসি তথা অগ্নি পূজকদের নওরোজ, ১০) হিন্দুদের বউমেলা, ১১) হিন্দুদের মঙ্গলযাত্রা, ১২) হিন্দুদের সূর্যপূজাসহ বিধর্মীদের বিভিন্ন পালনীয় বিষয় রয়েছে। এদিনে মুসলমানদের কোন বিষয় নেই।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বিধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করলে তা কুফরী শিরকী হয়ে থাকে। আর শিরক সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না যে উনার সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে ক্ষমা করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করে, সে সুদূর গোমরাহীতে পতিত হবে। (সূরা নিসা: আয়াত ১১৬) অতএব, মুসলমানদের জন্য বিধর্মীদের অনুষ্ঠান অমঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা সম্পূর্ণরূপে কুফরী শিরকীর অন্তর্ভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে-“হযরত আমর বিন শুয়াইব উনার পিতা থেকে এবং তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে। (মিশকাত শরীফ)
কুরআন শরীফে বর্ণিত আছে,যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য দ্বীন তালাশ করবে বা গ্রহণ করবে তার থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না বরং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের তথা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নাউযুবিল্লাহ! (সূরা আলে ইমরান: আয়াত শরীফ ৮৫)
কোরআন ও হাদীসের এসকল উদ্বৃতি উল্লেখ করে তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ মঙ্গল শোভাযাত্রা পালনের মুসলমানদের বাধ্য করা যাবে না বরং অবিলম্বে তা বাতিল করতে হবে।





