সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসেই লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসন ও শাশুড়ি বেগম খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক সময় দেয়ার কথা বলা হলেও মূলত রাজনীতিসহ অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা করাই তার মূল লক্ষ্য।

সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এবং বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী মরহুম মাহবুব আলী খানের ছোট মেয়ে ডা. জোবায়দার দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন এমন খবর প্রকাশের পর বিষয়টি বিএনপির সব মহলে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।

দলের নেতাকর্মীরা তার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়র বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে এমন আভাসই মিলেছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে যেকোনো সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে দণ্ডিত করে কারান্তরীণ করতে পারে। তখন বিএনপির হাল ধরার জন্য প্রয়োজন একজন বিশ্বস্ত রাজনীতিবিদ। ডা. জোবায়দাকে প্রয়োজনে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন। এমনটাও মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

দলের একটি সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের কঠোর মনোভাব বুঝতে পেরে বিএনপির হাইকমান্ড ডা. জোবায়দা রহমানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তারেক রহমানের মতামত জানতে চান। এরপরই ডা. জোবায়দার রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্রমতে, সক্রিয় রাজনীতিতে জোবায়দা রহমানের অংশগ্রহণের ব্যাপারে চেয়ারপারসন ছাড়াও আগ্রহী দলের অধিকাংশ সিনিয়র নেতা। তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও বিষয়টিকে দলের দু:সময়ে টনিক হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিশেষ করে তার মেধাবী ও ক্লীন ইমেজকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, কেবল জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবেই নয় ডা. জোবায়দা রহমানের পিতাও একজন সজ্জ্বন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তার সুযোগ্য কন্যা হিসেবেও তিনি রাজনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। তা ছাড়া দেশের গোটা রাজনীতিতেই এখন একটা সংকট চলছে। তার মত একজন মেধাবী রাজনীতিতে আসলে বিএনপি ও দেশের উপকারই হবে। তবে দেশে আসলেই ডা. জোবায়দা রহমানের রাজনীতি করতে হবে সেটি তার ও পরিবারের সিদ্ধান্তের বিষয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, ডা. জোবায়দা রহমানের দেশে আগমন করলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নি:সঙ্গ অবস্থা দূর হবে। একইসঙ্গে তার সাহচর্যে তিনি মানসিকভাবে আরও দৃঢ়চেতা অর্জন করবেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার সঙ্গে পরামর্শ করারও সুযোগ পাবেন। এতে করে দলের উপকার হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, ডা. জোবায়দা রহমান দেশে আসবেন এটি আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ। তবে তিনি যদি সত্যি রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তবে শুধু জাতীয়তাবাদী দল নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ তার মত একজন মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দেশ ও জাতি অনেক কিছুর প্রত্যাশা করে।

তিনি আরও বলেন, তিনি রাজনীতিতে যোগ দিলে বর্তমান আন্দোলন আরও গতিশীল হবে বলেও আমি বিশ্বাস করি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তাই না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

একই মত দলের অপর ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের। তিনিও বলেন, ডা. জোবায়দা রহমান দেশে এসে রাজনীতিতে যোগ দিবেন এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে কোনো মতামত দিতে আমি অপারগ।

ঢাকা, এমএইচ, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম/জেডআই