২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, ৭১ সালে এ জাতি স্বাধীনতার জন্য পাকিস্থানি হানাদারদের রুখে দিয়েছিলেন। আফসোস এখন আমাদের আজাদী রক্ষায় ভারতীয় হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। কি অপরাধ আমরা করেছিলাম?
মঙ্গলবার পঞ্চগড় জেলা জাগপা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ভারতীয় বিএসএফ’র নির্মম নির্যাতনে পঞ্চগড়ের শিংরোড সীমান্তে নিহত আকতারুল ইসলামকে স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে মহান শহীদ বলে অভিহিত করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আমরা ভারতের বন্ধুত্ব চেয়েছি। বিনিময়ে স্বাধীনতার পর থেকেই দিল্লি আমাদের জানে ভাতে ও পানিতে মেরেছে। প্রতিদিন সীমান্তে পাখির মত বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। ফারাক্কাসহ ৫৪ টি নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে সোনার বাংলাকে মরুভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বেরুবাড়ী ছেড়ে দিয়েও আমরা তিন বিঘার দখল পাইনি। সীমান্তের চারদিকে ফেনসিডিল ও মাদকের কারখানা বসিয়ে কৌশলে আমার যুব সমাজকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এটা কিসের বন্ধুত্ব ? কার সাথে বন্ধুত্ব ?
দিল্লিকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখবেন, দেশ হিসেবে আমরা ছোট হতে পারি, জাতি হিসেবে আমরা ছোট নই। প্রয়োজনে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে আরেকটি স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার আহবান জানান প্রধান।
শেখ হাসিনা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শহীদ আকতারুলসহ সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে আপনারা নীরব কেন ? গদির লোভে দেশের অনেক সর্বনাশ করেছেন। আমার সেনাবাহিনীকে পঙ্গু করেছেন। বিডিআর’কে জনমের তরে শেষ করে দিয়েছেন। বিজিবিকে পুতুল বানিয়ে রেখেছেন। সীমান্ত এখন অরক্ষিত। কোন দেশ প্রেমিকই এ অবস্থা মেনে নেবে না, মেনে নিতে পারে না।
সশস্ত্রবাহিনী ও বিজিবি’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও খাস-তালুক নয়। সীমান্ত ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা আপনাদের ঈমানী দ্বায়িত্ব। রক্তে কেনা বাংলাদেশ যেন স্বাধীনতা না হারায়। এ সময় ভারতীয়দের হাতে নির্মমভাবে নিহত শহীদ আকতারুলের ব্যাপারে বলতে গিয়ে আবেগপ্লাবুত হয়ে পড়েন জনাব প্রধান।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়া শহীদ আকতারুলের স্ত্রী মোছা: জাহানারার হাতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন জাগপা সভাপতি। সমাবেশে সীমান্তে প্রতিটি হত্যার কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
ইউনিয়ন জাগপা’র সভাপতি মো: মহির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এ বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় জাগপা’র সহ সভাপতি খন্দকার আবিদুর রহমান, জেলা জাগপার আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী, সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুব জাগপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ, সহ সভাপতি শাহরিয়ার বিপ্লব প্রমুখ। জেলা ও উপজেলা জাগপা ছাত্রলীগ, যুব জাগপাসহ সকলস্তরের নেতাকর্মী ও জনসাধারন বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেন।
ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





