বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার সুপরিকল্পিতভাবে পরিবেশ ধ্বংস করার মতো কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাই দেশের পরিবেশ রক্ষায় সরকারকে হঠানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।’ 

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সোমবার দুপুরে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বাংলাদেশে পরিবেশ ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ সব কথা বলেন তিনি। সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজ উল্লাহ। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এমন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করেছে যেগুলো পরিবেশকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে ব্যক্তিগত স্বার্থ, আছে দুর্নীতি।’ 

রামপালে কয়লাভিক্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে সরকার মানুষের অধিকার দেয় না, বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং চারপাশের পরিবেশ বসবাসের অনুপযুক্ত করে তুলছে। যে সরকার আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়, জানমালের ক্ষতি করে এমন পরিবেশবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সরকারকে হঠানো ছাড়া কোনো পথ নেই।’ 

‘সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে, দুর্নীতির স্বার্থে এ পরিবেশ বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অবস্থায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে বলেন’, মির্জা ফখরুল। সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় বৈরী পরিবেশ বিরাজমান। এ পরিস্থিতিতে কথা বলার স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই।’ 

বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর সঞ্চালনায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পরিবেশ বিশ্লেষক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, সেভ দ্য সুন্দরবনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্যামা ওবায়েদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ওবায়দুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রমুখ।

এমএনজে