বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুই কোটি টাকার জন্য যদি জেলখানায় যায় তাহলে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী ৮৬ কোটি টাকা আত্মসাতে জন্য কবে জেলখানায় যাবেন?
আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী নবীন দল আয়োজিত 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সর্বত্রই চলছে দুর্নীতি। বালিশের দুর্নীতি, পর্দার দুর্নীতি, বইয়ের দুর্নীতি। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, কোনো একটা প্রতিষ্ঠান ১০ কোটি টাকার সরঞ্জাম পাহারা দেয়ার জন্য ৪৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। এইভাবে দেশ চলছে।
আজকে বাংলাদেশের কী অবস্থা? দেশের সব প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন, লাগামহীন। গণতন্ত্রহীনতার কারণে সর্বত্র নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এই অবস্থায় দেশ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে সর্বগ্রাসী অবক্ষয় ঘটেছে। সরকার দেশ পরিচালনা করতে পারছে না, তারা সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হয়েও মাত্র দুই কোটি টাকার মামলায় আজ কারাবন্দি। তাহলে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের ৮৬ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে কবে জেলখানায় যাবেন?
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ দেশের শিক্ষিত দেশপ্রেমিক জনশক্তি তৈরি করার জন্য সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ।
এই বিদ্যাপীঠে কী পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে, সরকারের কর্তৃত্বে এবং তাদের দলের নেতাকর্মী দ্বারা কী পরিমাণ যে লুটপাট-অনিয়ম হচ্ছে- আপনারা ইদানিংকালের পত্র-পত্রিকায় তা দেখতে পারছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হতে পারে- এটা কোনোদিন কেউ কল্পনা করতে পারেনি। কত বড় অন্যায়, কত বড় দুর্নীতি। আপনারা দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৮৬ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করার দায়ে আজকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কৃত। এটাও বাংলাদেশের ইতিহাসে অস্বাভাবিক বিষয়।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বিএনপির সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সংকট গণতন্ত্রহীনতা।
সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিংসার চরিতার্থ করার জন্য দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে।
এএস





