সরকারপতনের আন্দোলন দমন ও বিরোধী শিবিরে আতংক সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জামায়াত নেতাকর্মীদেরগ্রেফতার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারী মুহম্মদ সেলিম উদ্দীন।
তিনি বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে কথিত রিমান্ডের নামে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাচ্ছেসরকার। যা জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদের মারাত্মক লংঘন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
তিনি কথিত রিমান্ডের নামে ড. মাসুদসহ নেতাকর্মীদের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন বন্ধ, অবিলম্বে রিমান্ড বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেন। অন্যথায় ড. মাসুদসহ নেতাকর্মীদের কিছু হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের রিমান্ডের নামে নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে রিমান্ড বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি শাহজাদপুর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুলশান-১ লিংক রোড়ে এসে সমাবেশে মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড.রেজাউল করিম, মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক আ জ ম কামাল উদ্দীন, সালাহ উদ্দীন ও মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, উত্তরা পশ্চিম থানা আমীর আবু ওমর, ছাত্র নেতা রাকিব মাহমুদ, তারেক ও হাসান প্রমূখ।
সেলিম উদ্দীন বলেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই দেশে আবারও ফ্যাসীবাদী ও বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা ইতোমধ্যেই দেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিরোধী দলকে রাজপথে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হচ্ছে না।
সরকার ড. মাসুদসহ জামায়াত নেতাকর্মীদের ঘরোয়া বৈঠক থেকে গ্রেফতার করে কথিত রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যতন চালিয়েছে। পুলিশের উপর্যুপরি নির্যাতনে তিনিসহ নেতাকর্মীরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আওয়ামী বাকশালীদের অভিনব আবিষ্কার। মূলত রিমান্ড বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সুষ্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সরকারের নির্দেশে পুলিশ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ড. মাসুদসহ নেতাকর্মীদের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে তার মাধ্যমে একদিকে যেমন আদলত অবমাননা করা হয়েছে।
অপরদিকে তা দেশের সংবিধান ও মানবাধিকারের মারাত্মক লংঘন। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন ফ্যাসীবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আওয়ামী লীগেরও শেষ রক্ষা হবে না। তিনি সরকারের জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
ঢাকা, ১৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





