খালেদা জিয়া ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন কিন্তু তিনি গণতন্ত্রের কেউ নন। জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধী, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত সমর্থক খালেদা জিয়ার সাথে সিদ্ধ নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে জাতীয় সংলাপ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে জেলা জাসদ আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য সংলাপ হোক তারপর সিদ্ধ নির্বাচনের জন্যে আলোচনা হতে পারে। যারা সংলাপ ও সিদ্ধ নির্বাচনের কথা বলেন তাদেরকে বলবো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত জঙ্গি নিয়ে হবে নাকি না নিয়ে হবে। যুদ্ধাপরাধী নিয়ে হবে নাকি না নিয়ে হবে। সেই ব্যাপারে একটা জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন।
একটাই আলাপ হতে পারে জঙ্গিবাদ ত্যাগ করুন, নাশকতার নিন্দা করুন, নাশকতার সাথে জড়িদের আইনের কাছে তুলে ধরুন তারপর বিবেচনা করা যেতে পারে যে, সিদ্ধ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে কি হবে না।
ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম সাদেক হোসেনের পরিচালনায় জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন শিরীন সুলতানা এমপি, লুৎফা তাহের এমপি, আফরোজা হক রিনা, শফিউদ্দিন মোল্লা, অধ্যাপক মুখলেছুর রহমান মুক্তাদির, শওকত রায়হান।
এসময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটনসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয় জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিনিধি সভায় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয়বার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনা করছেন। জাসদ এর গুরুত্বপূর্ণ অশিংদার। দেশ পরিচালনার বিশ্রামের নয়, ভোগবিলাসের নয়। চক্রান্তকারিরা ১৪ দল ও মহাজোটের ভেতরে অনৈক্যের বীজ, অনৈক্যের বাঁশি বাজানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা, বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র বিপদে পড়ে, সামরিক শাসনের দালালরা দেশে অনৈক্যের সুর অনৈক্যের বাঁশি ফুঁ দেয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, জাসদ হচ্ছে সেই দল যে রাজনৈতিক কারণে ঐক্য করে আবার রাজনৈতকি কারণে বিরোধীতা করে। জাসদ অতীতে রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে বিরোধীদল হিসেবে যাত্রা শুরু এবং বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ এক পরিস্থিতিতে জাসদ কোনো ‘রাখডাক’ না করে প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়ে গণবাহিনী গঠন করেছিল। সেই গণবাহিনী গঠন নিয়ে ইতিহাসবিদরা আলোচনা করবেন। জাসদ প্রকাশ্য রাজনীতিই হোক আর গণবাহিনী দিয়ে সশস্ত্র রাজনীতি হোক, প্রকাশ্য সশস্ত্র বিদ্রোহী হোক জাসদ প্রকাশ্য ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার আন্দোলনের কৌশল হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিয়েছে।
জাসদ কখনোই সামরিক শাসনের সাথে হাত মিলায়নি। কখনোই সামরিক শাসন, বঙ্গবন্ধুর হত্যা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে সমর্থন করেনি। যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জাসদ রাজনৈতিক গাটছড়া বাঁধেনি। বরং আমরা দুঃখের সাথে দেখছি অতীতে যারা আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বেইমানের দলে নাম লিখেছিল, সামরিক শাসকদের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল, খন্দাকার মোসতাকসহ আরো যেসব নেতাকর্মী আওয়ামী লীগকে অসহায় ফেলে রেখে সামরিক শাসনের দালালি করেছিল, পা চেটেছিল, সেইসব বিশ্বাসঘাতক আর বেইমানরাই যুগে যুগে অনৈক্যের বাঁশিতে ফু দেয়। ওদের ফাঁদে আমরা পা দিবো না।
দেশব্যাপী আলোচিত কয়েকটি ইস্যুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ মহাজোটের ছাতারতলে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ আর ছাত্রলীগের বাড়াবাড়ি প্রত্যক্ষ করছে। যা জনগণের মনে অস্বস্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, মহাজোটের ছাতারতলে কিছু দলবাজি এবং ক্ষমতাবাজির বাড়াবাড়ি আছে এই অভিযোগকে আমি অস্বীকার করিনা। আমরা মনে করি, সুশাসন কায়েম করতে আইনের শাসন কায়েম করতে এই বাড়াবাড়ি বন্ধ করে দেয়া উচিত। তবে মনে রাখবেন যারা বাড়াবাড়ি করছে প্রত্যেককে আজ হোক আর কাল হোক শেখ হাসিনার সরকার কিন্তু কারাগারে পাঠিয়েছে। দুর্নীতির জন্যে কাউকে ছাড় নাই। বাড়াবাড়ির জন্যে কাউকেই ছাড় নাই। জাসদ সামনে থেকে এই বাড়াবাড়িকে বন্ধ করে দিবে।
বড় দুইদলের সমঝোতার প্রশ্নে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও গনতন্ত্র এবং জঙ্গিবাদ ও গণতন্ত্র এ প্রশ্নে কোনো মিটমাটি হয় না। অতিতে যারা মিটমাটের চেষ্টা করেছে তারা সবাই হয় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলো না হয় সামরিক শাসনের পক্ষ নিয়েছিলো। চলমান জঙ্গিবাদ বনাম গণতন্ত্র, যুদ্ধাপরাধ বনাম গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা বনাম গণতন্ত্র, নাশকতা বনাম গণতন্ত্র এখানে মিটমাটের কোনো জায়গা দেখিনা। নব্বই সালের পর থেকে আমরা সমঝোতার পথে হাঁটার চেষ্টা করেছি। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী।
অতীতে যারা শয়তানি করেছিল তারা তাদের শয়তানি ছাড়েনি। যারা যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত ছিল, সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়িয়েছিলো, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করেছিল, বাংলাদেশকে ভাগ করার চেষ্টা করেছিল তাদের এই রাজনৈতিক শয়তানি তারা ছাড়েনি। ক্ষমা চায়নি। তওবা করেনি। দোষ স্বীকার করেনি। সুতরাং শয়তানদের সাথে রাজনৈতিক কোনো মিটমাট নেই। যেসব বুদ্ধিজীবী জঙ্গিবাদী, যুদ্ধাপরাধী, সাম্প্রদায়িক, লুটেরাচক্রের সাথে মিটমাটের প্রস্তাব দেন, তারা কার্যত গণতন্ত্রের নামে জঙ্গিবাদিীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদ সমর্থন করেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করেন, সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেন। তিনি গণতন্ত্রের কাব থেকে চলে গেছেন। উনি আর গণতন্ত্রের কাব সদস্য নন। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন কিন্তু গণতন্ত্রের তিনি কেউ নন। সুতরাং যারা মিটমাটের কথা বলছেন, তাদেরকে বিনয়ের সাথে বলবো জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধী, নাশকতা ও অর্ন্তঘাত সমর্থক খালেদা জিয়ার সাথে গণতন্ত্রের সংলাপ হতে পারে না।
ঢাকা, ৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





