যে কোনো সময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের পদ হারাতে পারেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী। এমনকি দল থেকেও বহিষ্কার হতে পারেন তিনি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ঘনিষ্ট সূত্রে এসব কথা জানা গেছে। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও এমপি হিসেবে বহাল থাকতে পারবেন তিনি।
সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখার বিষয়ে সংবিধানের প্রোটেকশন পাবেন তাজুল ইসলাম। একজন সংসদ সদস্যের পদ হারানোর বিষয়ে সংবিধানে যেসব শর্ত ও বিধি বর্ণিত রয়েছে, তাতে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
এদিকে দলের চেয়ারম্যানকে উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রকাশ্যে চেয়ারম্যানের বিরোধিতা করা, আনুষ্ঠানিক কোনও সভা না করেও, তা পার্টির সংসদীয় দলের সভা বলে চালিয়ে দেয়া, এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভার নামে কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধীদলের সংসদীয় উপনেতা মনোনীত করায় অসন্তুষ্ট এরশাদ এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ধর্না দিলেন।
তাছাড়া পার্টির গঠনতন্ত্রে দলের চেয়ারম্যানের ক্ষমতার বিষয়টি সবাইকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে।
দশম জাতীয় সংসদ গঠনের পর তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ করা হয়। তখনই তার এ পদে নিয়োগের বিরোধিতা করেন জাতীয় পার্টির বেশিরভাগ সংসদ সদস্যসহ শীর্ষ নেতারা। যুদ্ধাপরাধীদের তালিকায় নাম থাকা, বারবার দল বদলানো, দলের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি, দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা কারণে তখন তারা তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে এ পদে নিয়োগের বিরোধিতা করেন। কিন্তু সবকিছুর পরও তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদে নিযুক্ত হন।
সূত্র জানায়, নির্বাচন ও সংসদ গঠনের পর প্রকাশ্যে পার্টি চেয়ারম্যান সাবেক রাস্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরোধিতায় নামেন তিনি। এ অবস্থায় তাকে ‘শাস্তি’ হিসেবে দলের দফতর সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এতেও তাজুল ইসলাম চৌধুরীর আচরণগত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
দলের চেয়ারম্যানের প্রকাশ্য বিরোধিতার পাশাপাশি তাকে উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলের অভ্যন্তরে অনৈক্য সৃষ্টিসহ একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ সবার উপস্থিতিতে তাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তুমি দলের ভেতরে থেকে ষড়যন্ত্র করছো’।
এরশাদ তাকে সংযত আচরণের পরামর্শ দেন সে সময়। পার্টির অধিকাংশ সংসদ সদস্য ওই দিন এরশাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং তাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পরিস্থিতি অনুকূলে নয় বুঝতে পেরে বৈঠকে তাজুল ইসলাম চৌধুরী এরশাদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





