প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট চলছে।
এই নির্বাচনে জিগাতলায় গ্রেফতার হওয়া এক এজেন্টকে ছাড়াতে নিজেই পুলিশ ভ্যানে উঠছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
জানা গেছে, ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে জিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট মো: সেলিম হোসেনকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।
এসময় দলীয় এজেন্ডকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে পুলিশ ভ্যানে উঠে পড়েন ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির প্রধান এজেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
পুলিশের উদ্দেশ্যে ইশরাক হোসেন বলেন, আপনারা নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আমাদের এজেন্টকে অন্যায়ভাবে আটক করতে পারেন না। আমার এজেন্টকে ছেড়ে দিবেন না হয় আমাকে আপনাদের সাথে নিয়ে যেতে হবে।
এর আগে সকালে জিগাতলা কুয়িন্স কলেজ কেন্দ্রে ইশরাক হোসেন বিএনপির ১২ জন এজেন্টকে ঢুকান। পরে এটা নিয়ে বাইরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়েন তিনি।
ঢাকা-১০ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
উল্লেখ্য, সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস পদত্যাগ করায় ঢাকা-১০ আসনটি গত ২৯ ডিসেম্বর শূন্য ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, শেরেবাংলা ও লালবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন।
তারা হলেন- আওয়ামী লীগের শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিএনপির শেখ রবিউল আলম, জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের কাজী মুহাম্মদ আবদুর রহিম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিজানুর রহমান।
এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ২৭৫ জন, ভোটকেন্দ্র ১১৭টি ও ভোটকক্ষ ৭৭৬টি। এ আসনটিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি বিবেচনায় পুলিশ ও আনসারের ১৪-১৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনী এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। থাকবে র্যাবের টিমও।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকায় আমরা বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিটি ভোটকক্ষে জীবাণুনাশক ও টিস্যু রাখা হবে। ভোটারদের হাত ধুয়ে ভোট দিতে এবং ভোট দেয়ার পর আবারও হাত ধোয়ার অনুরোধ জানিয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে।
যদিও গতকাল (২০ মার্চ) সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতান বলেছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করায় করোনা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেননা ফিঙ্গারপ্রিন্টযুক্ত ইভিএমে ভোটদান থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি আছে।
এমবি





