মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা যথেষ্ট আইনী সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তার বড় ছেলে হাসান জামিল।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বৃহস্পতিবার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের করে তার পরিবার।

হাসান জামিল বলেন, বর্তমান সরকার ফাঁসি কার্যকরের নামে তার বাবাকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, হত্যার পর আমার বাবাকে একনজর দেখারও সুযোগ দেয়নি সরকার। এমনকি বাবার নামাজে জানাজায়ও অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। সরকার আমাদের প্রতি জুলুম করেছে।

ন্যায়বিচার বঞ্চিত এক অসহায় পিতার ছেলে হিসেবে আমি আমাদের পরিবারে প্রতি করা জুলুমের বিচারের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম।

তিনি আরো বলেন, গত বছর এই দিনে আমরা শুধু একজন বাবাকেই হারায়নি। এদেশের ইসলামী আন্দোলনের একজন নেতাকে হারিয়েছি।

হাসান জামিল দাবি করেন, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের বাধা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে সরকার আমার বাবাকে হত্যা করেছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার বাবা মৃত্যুর আগে জেনে যেতে পারলেন না তাকে রিভিউ করার সুয়োগ দেয়া হয়েছে কিনা। রিভিউ খারিজ করার সঙ্গে সঙ্গে সরকার রায় কার্যকর করেছে। কিন্তু ফাঁসি দেওয়ার ৩৪৮ দিন পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে, তাতে রিভিউ করার সুযোগও দেয়া হয়েছে।

এ সময় হাসান জামিল ফাঁসি কার্যকরের পর যারা তার বাবা আবদুল কাদের মোল্লার গায়েবানা জানাজা পড়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ার জাহান, আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ খান, সাইফুর রহমান, আসাদ উদ্দিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাত ১০টায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকরা করা হয়।

এএইচ