ফেনী জেলা কারাগারে বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন এতিম আলি মিয়া (৩৭)। এসময় তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তবে, তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশি নির্যাতনে এতিম আলীর মৃত্যু হয়েছে।
এতিম আলীর স্ত্রী বিবি হাজেরা অভিযোগ করেন, কারাগারে তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এসময় জেলহাজতে তার ওপর পুলিশের নির্যাতনের কথা জানান তিনি (এতিম আলী)।
তিনি জানান, ২২ জুলাই সন্ধ্যায় দাগনভূঞা পুলিশ তার স্বামীকে চায়ের দোকান থেকে আটক করে। এসময় দাগনভূঞা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল তার স্বামীকে ছেড়ে দিতে এক লাখ টাকা দাবী করেন। টাকা দিতে না পারায় দুই দিন থানায় আটকে রেখে তার স্বামীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
ওই টাকা না দেওয়ায় পুলিশের নির্যাতনে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিবি হাজেরা।
তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দাগনভূঞা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন। তিনি দাবি করেন তার বিরুদ্ধে একটি মহল এ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
ফেনী সদর হাসপাতালের আরএমও অসিম কুমার জানান, এতিম আলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার ডান হাতের কনুইতে চামড়া পচন ধরে ছিল। হাসপাতালে ভর্তির করার সময় তার শরীরে প্রচুর জ্বর ছিল। তিনি বেশ কয়েকবার বমিও করেন।
তবে, মূলত কি কারণে এতিম আলী মারা গেছেন তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না বলে জানান আরএমও।
ফেনী জেলা কারাগারের জেলার দিদারুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এতিম আলী মিয়া অসুস্থবোধ করলে জেল চিকিৎসক তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কার্ডিয়াক ফেল (হৃদক্রিয়াযন্ত্র বন্ধ) করায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী এতিম আলীর অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী। এতিম আলীর দুই এতিম সন্তানকে নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন স্ত্রী বিবি হাজেরা। তার বড় ছেলে ফরহাদ দাগনভূঞা আতাতুর্ক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। মেয়ের স্মৃতি বয়স সাড়ে ৩ বছর।
‘আমার আব্বুকে পুলিশ মেরে ফেলেছে। এখন ছোট বোন ও আম্মুকে দেখবে কে? আমার পড়ালেখার খরচ দিবে কে?’
মারা যাওয়া যুবদল নেতা এতিম আলী মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী ফরহাদ (১২) কান্না জড়িত কণ্ঠে এ কথা বলেন।
দাগনভূঞা পৌর সভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, এতিম আলীর বিরুদ্ধে এলাকায় কোন খারাপ কাজের অভিযোগ নেই। তিনি ভ্যানে করে মাছ বিক্রি করতেন।
এতিম আলি দাগনভূঞা পৌরসভার শ্রীধরপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে। তিনি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। অল্প বয়সে বাবা মাকে হারান এতিম আলী।
এ ব্যাপারে দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন জানান, শুধু বিএনপি করার অপরাধে ক্ষমতাসীন দলের ইন্ধনে পুলিশের নির্যাতনে এতিম আলী মারা গেছেন।
এতিম আলীর ওপর পুলিশি নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফয়সল বলেন, এতিম আলীর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতির মামলা বিচারাধীন ছিল। মামলাগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ও অপরটি জিআর কোর্টে।
এদিকে এতিম আলীর ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হয়েছে।
ঢাকা, ৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





