বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের নোটিশকে বাংলাদেশ সরকারের মিথ্যা অপকৌশলের অংশ এবং বেআইনী বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
রাজনৈতিক হয়রাণির উদ্দেশ্যেই সরকার এ অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ এনে আইনজীবী নেতারা বলেন, শুধু সরকার নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষ জানে তারেক রহমান কোথায় আছেন, কেন আছেন? আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহও এ বিষয়ে অবহিত। তিনি কোনো পলাতক আসামী নন। তাঁর বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করার মতো কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা অবৈধ সরকারের এই অপকৌশলকে রাজনৈতিক ও আইনীভাবেই মোকাবেলা করার ঘোষণা দেন আইনজীবী নেতারা।
মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল রাতে এক যুক্ত বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ ও সলিসিটর বিপ্লব পোদ্দারসহ সংগঠনটির নেতারা এ ঘোষণা দেন।
বিবৃতিদাতা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অন্য নেতারা হলেন- ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দীন, সলিসিটর একরামুল হক মজুমদার, ব্যারিস্টার আবুল মনসুর মো. শাহজাহান, ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান, ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন, ব্যারিস্টার হাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবুল হাসনাত, ব্যারিস্টার আবু সালেহ মোহাম্মদ সায়েম, ব্যারিস্টার মুজিবুর রহমান, ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন, ব্যারিস্টার এম আশরাফুল আলম চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান, অ্যাডভোকেট নাসের খান অপু, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার একেএম হাসনাত, ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, অ্যাডভোকেট আলী আকবর কাদের, ব্যারিস্টার শামসুজ্জোহা, অ্যাডভোকেট গোলাম জাকারিয়া, অ্যাডভোকেট শিবলি, ব্যারিস্টার সুবহে সাদিক, ব্যারিস্টার ওয়াজেদ মিয়া, ব্যারিস্টার আবু ইলিয়াস, ব্যারিস্টার শহিদুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান পল্লবী, অ্যাডভোকেট নাসরিন আখতার, লিগাল অ্যাডভাইজার কুমকুম আকতার, অ্যাডভোকেট জুয়েল রানা, অ্যাডভোকেট তানজির, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বিবৃতিতে আইনজীবী নেতারা বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের নোটিশ নিছকই বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র ও বাড়াবাড়ি। আইনের দৃষ্টিতে এটা বৈধ নয়। ইন্টারপোলের এই রেড অ্যালার্টের আইনগত কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
তারা বলেন, কেউ পলাতক থাকলে তাকে খুঁজে পেতে রেড এলার্ট জারি করা যায়। বিদেশে পলাতক হলে সদস্য রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা চাইতে পারে। কিন্তু বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তো পলাতক নন, রিকোগনাইজড পারসন (পরিচিত ব্যক্তি)। তিনি বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে লন্ডনে এসেছেন। রাইট ওয়েতে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে আছেন, উইথ পাসপোর্ট। তিনি (তারেক রহমান) বিভিন্ন প্রকাশ্য জনসভায় উপস্থিত হন। বক্তৃতা করেন। মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্ব তা জানে, দেখে। তাঁর বক্তৃতা অনেক মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এরপরও কী তাকে পলাতক বলা যায়?
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জনগণের কাছে তারেক রহমানকে হেয় করতেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে পলাতক দেখিয়ে সরকার ইন্টারপোলের কাছে সহায়তা চেয়ে এই রেড অ্যালার্ট সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের সৃষ্ট এই রেড এলার্ট জনগণের কাছে 'হাস্যকর'। রাজনৈতিক ও আইনীভাবে এটা মোকাবেলা করা হবে। আমরা এর আইনগত দিকগুলো আরো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছি। কেন্দ্রীয় বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আইনজীবী নেতারা আরো বলেন, আপনারা জানেন- যে মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেটি নিতান্তই একটি রাজনৈতিক ও মিথ্যা অভিযোগের মামলা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার নিন্দনীয় ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা সবাই। বিএনপি সরকার সেই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করেছে। এক-এগারো সরকারও ফের তদন্ত করে এবং চার্জশীট দেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে নতুন করে রাজনৈতিক লোক দিয়ে সেই মামলার তদন্ত করে। সেখানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত সিআইডি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল কাহহার আকন্দকে। যিনি অবসরে গিয়ে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং নৌকা মার্কায় নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন কিনেছিলেন।
শেখ হাসিনার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে যা বের হয়েছে, আবদুল কাহহার আকন্দ একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত রিপোর্ট হিসেবে সেটাই আদালতে সাবমিট করেছে। কোনোভাবে তারেক রহমানকে জড়াতে না পেরে এই মামলার আসামী মুফতি হান্নানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তাঁর (তারেক রহমান) নাম বলানোর চেষ্টা করেছেন এই কাহ্হার আকন্দ গংরা। কিন্তু পরে আদালতে গিয়ে মুফতি হান্নান স্পষ্ট করেছেন ৬৪ ধারায় জবানবন্দী হিসেবে 'উল্লেখিত বক্তব্য' তার নয়। তাকে নির্যাতন করে 'গ্রেনেড হামলা ঘটনায় তারেক রহমান জড়িত' এমন তথ্য বলার জন্য চাপ দেয়া হয়।
অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং হাস্যকর বিষয় হলো, এমন জোরপূর্বকভাবে তারেক রহমানের জড়িত থাকার প্রমাণ নিশ্চিত করতে না পারলেও ষড়যন্ত্রকারী আবদুল কাহ্হার আকন্দ গংরা চার্জশীটে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম সংযোজন করেন এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করে।
এভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আওয়ামী চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশের আদালতকে প্রভাবিত করেছে। এই মামলায় আদালতকে ব্যবহার করে অবৈধ সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকেও ধ্বংস করার হীন ষড়যন্ত্র করেছে। এর অংশ হিসেবে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পলাতক আসামী দেখিয়ে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, এই রেড এলার্ট ভিত্তিহীন মিথ্যা তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত। রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যেই এটা করা হয়েছে।
আমরা ইতোমধ্যে প্রকৃত তথ্য দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ইন্টারপোলের কাছে লিখেছি। আশা করি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল বাংলাদেশে চলমান আওয়ামী জাহিলিয়াতের বর্বরতা সম্পর্কে জানার পর এই রেড এলার্ট প্রত্যাহার করবে। এবং একইসাথে বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ হত্যাকারী শেখ হাসিনার সরকার এবং তার সহচরদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করতে ইন্টারপোলের প্রতি আহ্বান জানান আইনজীবী নেতারা।
কেএইচ





