এই সরকার অবৈধ, সংসদও অবৈধ । ‘৫ জানুয়ারি আমরা কী দেখেছিলাম? সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট অংশ নিয়েছিল। ওই জোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি সব পরগাছা। এরা ছাড়া আর কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।’
‘১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। এরা যে ভোট ছাড়া নির্বাচিত হলো এদেরকে কীভাবে জনপ্রতিনিধি বলা হবে? এই সরকার অবৈধ, এই সংসদও তাই অবৈধ। তাদের জনগণ মেনে নেয়নি, নিবেও না।’
এই সরকারের অনুগত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তারা যে মেরুদণ্ডহীন ফের তা পৌর নির্বাচনে প্রমাণ করেছে।
অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার শুধু গণতন্ত্র নয়, এদেশের মানুষের হত্যাকারী। তারা বিরোধী দল ধ্বংস করে দিতে তৎপর। হামলা-মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত কোনো অত্যাচারীই আজীবন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। এরাও পারবে না।
‘এই সংবিধানে জনগণের কল্যাণের কিছু নেই। তারা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইচ্ছে মতো সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছেন। আমরাও করতে পারতাম কিন্তু করিনি কারণ, আমরা দুর্নীতি করি না’।
‘ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদেরও দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু আমরা সংবিধান সংশোধন করিনি কারণ আমরা দুর্নীতি করি না। আর আওয়ামী লীগ এককভাবে সংবিধান সংশোধন করে কারচুপির মাধ্যমে বিএনপিকে শুধু পরাজিতই করেনি, ক্ষমতায় গিয়ে ইচ্ছে মতো সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছে।’পুলিশ.র্যাব বাদ দিয়ে রাজপথে এসে প্রমাণ করুন জনগন কার সঙ্গে রয়েছে।
‘এই কমিশন অথর্ব। এরা কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি।’ এ ‘মেরুদণ্ডহীন’ নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয় । নির্বাচন কমিশনের সচিব (মো. সিরাজুল ইসলাম) এর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘তিনি এমন কি লাট সাহেব হয়ে গেছেন যে, সাবেক মন্ত্রী তার কার্যালয়ে গেলেও তাকে বসিয়ে রাখা হয়। তার সঙ্গে তিনি দেখা করেন না।’
‘আসলে অবৈধ সরকারের এই সিইসি অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন। তার কথা বলারও সাহস নেই। পৌর নির্বাচনের মাধ্যমে তারা তাদের চরিত্র জনগণের সামনে আবার প্রমাণিত করেছে।’
সুষ্টু নির্বাচন হলে বিএনপি বিজয়ী হয়।জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। আওয়ামীলীগ অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্টু হবেনা। দেশের মানুষের প্রধান দাবি নিরপেক্ষ নির্বাচন। লুটপাট করার জন্য পাচারের জন্য বড় বড় প্রজেক্ট নেওয়া হচ্ছে। এ লুটপাটের হিসাব তাদের দিতে হবে । রেমিটেন্স বন্ধ হয়ে গেছে, প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে না।
‘আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো দিন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়, হবেও না। অবিলম্বে আলোচনায় বসে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিন। তখন আপনাদের জনপ্রিয়তা বোঝা যাবে।’
এই সরকার বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে , ‘আজ কে টকশোতে যাবে কে যাবে না তা বলে দেয়া হয়। কে টকশো করবে এজেন্সিগুলোকে আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেয়া হয়। আর সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে বন্দি করা হচ্ছে। এই হলো সত্যিকারের অবস্থা।’
‘টকশোতেও আজকে কেউ কথা বলতে পারে না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে বলে দেশ ছাড়া হয়েছে। তারা দেশেও থাকতে পারছে না।’
‘আওয়ামী লীগ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভয় দেখায় যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তাদের চাকরি চলে যাবে। আমি অভয় দিচ্ছি, তাদের চাকরি যাবে না। বিএনপি রাজনৈতিক বিবেচনায় অতীতে কখনো এ কাজ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’
‘বর্তমান সরকার আপনাদেরকে অপব্যবহার করছে। ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে বাধ্য করছে। কিন্তু আপনাদের কোনো ভয় নেই। সরকার যাবে-আসবে, কিন্তু আপনারা থাকবেন। তাই ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে দক্ষতা, যোগ্যতা বিবেচনা করে প্রমোশন দেয়া হবে। প্রমোশনের ক্ষেত্রে দল দেখা হবে না।’
‘আসুন আমরা আলোচনায় বসি, সংলাপে বসি। কোনো রাগ ক্ষোভ দুঃখ নেই। আসুন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একসাথে কাজ করি। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আসুন আমরা একসাথে কাজ করি।’
‘আমরা চাই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। গণতন্ত্রের জন্য এক সঙ্গে কাজ করতে। কেবল ২০১৪ সালের নির্বাচন নয় ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনও পাতানো নির্বাচন ছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ ও প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে আলোচনা করে করেছিল।
‘সঠিক পথে আসুন, গণতন্ত্রের পথে আসুন। এটা না হলে কখন জনগণ জেগে উঠবে তা বলা যায় না।’ গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসুন। না হলে এ দেশের মানুষ জেগে উঠলে আপনাদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না।
আজকের এ দিনে আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সেজন্য আমরা প্রতি বছর এ দিনে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমাদের এ দিবসও পালন করতে দিচ্ছে না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়নি। ভোট কেন্দ্রে মানুষ ছিলো না। ফলে এ সরকার যেমন অবৈধ, এ সংসদও অবৈধ।
সমাবেশে সভাপতিত্বের বক্তব্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে হিন্দুদের ওপর গজব নাজিল হয়। হিন্দুদের বাড়ি ঘর ধর্মীয় স্থানে হামলা চালানো হয়। ‘আসুন আমরা আলোচনায় বসি, সংলাপে বসি। কোনো রাগ ক্ষোভ দুঃখ নেই। আসুন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একসাথে কাজ করি। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আসুন আমরা একসাথে কাজ করি।’
এমএম





