ঝিনাইদহে ২ শিবির নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ২৫ দিন আটক রেখে রাতের আঁধারে হত্যার সরকার সারাদেশে ছাত্র হত্যার মিশনে নেমেছে।ঝিনাইদহে পুলিশ কর্তৃক ২ শিবির নেতাকে গ্রেপ্তারের ২৫ দিন পর গভীর রাতে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, অবৈধ সরকারের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে একের পর এক নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রদের নৃশংস ভাবে হত্যা করে নরঘাতক রুপে আবির্ভূত হয়েছে পুলিশ।
গত ১৮.০৩.১৬ তারিখ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে ঝিনাইদহ জামতলা মোড় থেকে পুলিশ পরিচয়ে যশোর এমএম কলেজের ছাত্র ও ছাত্রশিবির কালিগঞ্জ পৌরসভার সভাপতি আবুজর গিফারিকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার পরিবার এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানায় যোগাযোগ করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তার সন্ধানের দাবী জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিবৃতির মাধ্যমে তার সন্ধান দাবী করা হয়। কিন্তু পুলিশ তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো ২৫.০৩.১৬ তারিখে ঝিনাইদহ কে সি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের কথাও পুলিশ অস্বীকার করে।
তাদের পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার তাদের সন্ধান দাবী করা হয়েছে। একই দাবীতে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এত কিছু পরও পুলিশ তাদেরকে আদালতে হাজির না করে গত রাতে পরিকল্পিত ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। কোন কারণ ছাড়াই মেধাবী ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে অস্বীকার করা ও নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করা কোন দায়িত্বশীল পুলিশের কাজ হতে পারেনা।
এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং অবৈধ সরকারের মেধাবী ছাত্র হত্যা মিশনেরই অংশ। পুলিশ অবৈধ সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালন করতে একের পর এক নরঘাতকতার নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করে চলেছে। পুলিশকে এখন জনগণ অবৈধ সরকারের ঘাতক বাহিনী ভাবতে শুরু করেছে।
এই হত্যাকান্ডের দায় সরকারকেই নিতে হবে।নেতৃবৃন্দ বলেন, অবৈধ সরকারের ইশারায় একের পর এক মায়ের বুক খালি করে চলেছে পুলিশ। তারা দায়িত্ব পালনের বদলে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আমরা হুশিয়ার করে বলতে চাই, অবিলম্বে বর্বর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করুন।
হত্যাকারীদের পরিচয় জনগণের অজানা থাকবে না। সময়ের ব্যবধানে ঘাতকদের বিচারের কাঁঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিবির নেতাদের হত্যাকারী পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের এই রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ডের বিরোদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
সেই সাথে জাতিসংঘ সহ সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনকে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি।নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নেতাদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি সকল আচরণ পরিহার করতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এআই/এমবি
















