গত ৪ জুলাই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত এক প্রার্থনা সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জামায়াতকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দেন তা সর্বৈব মিথ্যা দাবি করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার হীন উদ্দেশ্যেই সুরঞ্জিতের এ হাস্যকর মিথ্যা মন্তব্য।

তিনি বলেন, জাতিকে একেবারেই বোকা মনে করবেন না। জাতি আপনাদের আমলনামার সকল রেকর্ড সংরক্ষণ করছে। গণতান্ত্রিক পন্থায়ই সময় মতো জাতি আপনাদের সঠিক পাওনা মিটিয়ে দিবে।

মঙ্গলবার (০৫ জুলাই ) সুরঞ্জিত সেনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশী-বিদেশী সকলেই জানেন যে, গুলশানের রেস্টুরেণ্টে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের একজন হল আওয়ামী লীগের নেতা ইমতিয়াজ খান বাবুলের পুত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ। এখন জনগণকে ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশ্যেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

কোন ঘটনা ঘটলেই তার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো তাদের এক দূরারোগ্য মানসিক ব্যধিতে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে তিনি তার ধর্মের অবমাননা করেছেন। এভাবে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে প্রকৃত সত্য কখনো আড়াল করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, একে একে কতিপয় সন্দেহভাজনকে হত্যা করে মূল ঘটনাকে আড়াল করা হচ্ছে। প্রকারান্তরে ক্রসফায়ার নাটকের মাধ্যমে ভিকটিমকে তার ন্যায্য বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অপরদিকে বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি সন্ত্রাস লালনেরই অন্য নাম।

দেশে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে জামায়াতের এ নেতা বলেন, এ যাবত যতগুলো সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে আমরা তার সবগুলোরই নিন্দা জানিয়ে বিচারের দাবি করেছি। অথচ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা মন্তব্য করেছেন। তাদের মিথ্যাচার এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি তিলে তিলে জাতিকে ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মিথ্যাচার বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের অনুরোধ জাতির অস্তিত্বের স্বার্থেই মিথ্যাচার ক্ষ্যান্ত দিন। জাতিকে বাঁচতে দিন। জাতীয় সত্তাকে মেহেরবাণী করে আর ধ্বংস করবেন না। অনেক হয়েছে, এবার থামুন। "

এমআইএস