ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের প্রধান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)।

তিনি আজ সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গ ত্যাগ না করলে আজ থেকে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকে বসবে না যুক্তফ্রন্ট।

রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাড়িতে আজ শনিবার সন্ধ্যার পর বি চৌধুরী এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

এই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি মূলত বিএনপি-গণফোরাম-নাগরিক ঐক্য ও জাসদ নিয়ে গড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হয় বহু আগে। প্রায় দুই বছর আগে। নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রথমে এই প্রস্তাব নিয়ে আসে আমার কাছে।

দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমিও সানন্দে ওই প্রস্তাব গ্রহণ করি। পরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিক ও জাসদের আ স ম রবও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন।

এরইমধ্যে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ডাক দেন। আমরাও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করি। তিনিও বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে একমত হন। আমিও রাজি হয়ে যাই। ড. কামাল ও আমি একই স্কুলের ছাত্র। তিনি আমার ৬ বছর জুনিয়র।

যাই হোক। এভাবে আমাদের আলাপ আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে বিএনপিও আমাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করে। বিশেষ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

আমিও ওই দলের সঙ্গে ছিলাম, প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলাম। এছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। আমি তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। সবমিলিয়ে আমিও চেয়েছি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলতে। আমি এখনও চাই সেটি।

বি. চৌধুরী বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছিলাম যে, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্যের রূপরেখায় সেটির উল্লেখ থাকতে হবে।

কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় হচ্ছে-জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে ৭ দফা ও ১১ লক্ষ্য দিল তাঁর কোথায় ক্ষমতার ভারসাম্য খুঁজে পাবেন না। সেখানে একটি দলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা এই জোট থেকে সরে এসেছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি. চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা ও ১১ লক্ষ্য গতরাতের বৈঠকেও (আ স ম আবদুর রবের বাসায় শুক্রবার রাতের বৈঠক) উত্থাপন করা হয়নি।

আমরা এ নিয়ে অন্ধকারে ছিলাম। সেই সঙ্গে আজ আমাদের আমন্ত্রণ করে ড. কামাল হোসেন দরজা বন্ধ করে রাখেন। এটি কেমন সংস্কৃতি, প্রশ্ন রাখেন মাহী।

সংবাদ সম্মেলনে বিকল্প ধারা মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান উপস্থিত ছিলেন। এএস