বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আর স্বজনহারা মা বোনদের কান্না দেখতে চাই না এবার কাঁদতে হবে আওয়ামী লীগকে। তারা এসে আপনাদের হাতে পায়ে ধরে কান্না কাটি করবে। তাদের অনেক অন্যায় অন্যায় অত্যাচার জনগণ সহ্য করেছে। তাই এবার তাদের এমন ভাবে ঝেটিয়ে বিদায় করবেন যাতে করে ৪২ বছরেও ক্ষমতায় আসতে না পারে।
বুধবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের লঞ্চঘাট সংলগ্ন একটি মাঠে গুম-বিচার বহির্ভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতিবাদে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সুধী সমাজের অনেকে বলছেন র‌্যাবের সংস্কার করা হোক। কিন্তু আমরা বলছি এই র‌্যাব বাহিনীর বিলুপ্ত করতে হবে কারণ তারা শুধু মানুষ হত্যা করেই থামছে না। এরা এখন মানুষ খুন করার কনট্রাকটরে পরিণত হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, র্যা বের এখন গ্যাংরিন ক্যানসার হয়েছে। যার কারনে তারা এখন পঁচে গেছে। শরীরে সাধারন রোগ হলে এন্টিবায়োটিক খেলে কাজ হয়। কিন্তু শরীরে পঁচন ধরলে সেটি কেটে ফেলতে হয়। তাই এই র্যা ব বিলুপ্তি করে প্রয়োজনে সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে নতুন বাহিনী গঠন করতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়া প্রশ্ন করে বলেন, যারা ৬কোটি টাকা নিয়ে মানুষ খুন করতে পারে তাদের কেন অকালীন অবসরের নামে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা দেয়া হল? সেই টাকা তো আওয়ামী লীগের টাকা নয়। এই টাকা জনগণের। তাই নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় জড়িত র্যা ব কর্মকর্তাদের সকল সুবিধা বাতিল করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই আওয়ামী লীগ মিথ্যাচার আর অত্যাচারে পারদর্শী। এরা ফেনীর ঘটনায় নিজেদের দলের খুনীদের আড়াল করতে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দীন মিনারকে আটক করেছে। মিনারকে নির্দোষ দাবী করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবী করেন তিনি।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজের নিরাপত্তা নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের কোনো মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ দাবী করলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সময়ে কোন ধর্মের মানুষ নিরাপদে নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য স্থানে হিন্দুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় উপসানালয়ে হামলার চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়াও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার কথাও উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারপাসন প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, নারায়নগঞ্জের গুম-খুনের ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। এজন্য এই ঘটনার জন্য তারও দায়-দায়িত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে তাকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। কারণ কোনো কোনো অপরাধের শাস্তি মাফ হওয়ার মত নয়।
আওয়ামী লীগ দেশকে অকার্যকর রাস্ট্রে পরিণত করতে চায় মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায়। আর সেজন্য সিভিল প্রশাসন থেকে শুরু করে সব জায়গায় নিজেদের দলীয় অযোগ্য লোকদের বসিয়ে রেখেছে। কিন্তু আমাদের সময় আমরা দলীয় বিবেচনা না করে যোগ্য লোকদের নিয়োগ করতাম।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে একটি নয়, দুটি পদ্মা সেতু করা হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গত ৫ বছরে পদ্মা সেতুর নাম করে এর অর্ধেক টাকা মেরে দিয়েছে। তারা আবারো পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলে টাকা সংগ্রহ করছে। যদিও এই ৫মাসে তারা কিছুই করতে পারে নি। কিন্তু তাদের আর সময় দেয়া হবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল বলে দাবী করলেও তারা মূলত সীমান্ত পাড়ি দেয়া মুক্তিযোদ্ধার দল। আর বিএনপি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধার দল।
তিনি আবারো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময়ক্ষেপন করার কোনো সুযোগ নেই। তাই যত দ্রুত নির্বাচন দিবেন ততই আপনাদের মঙ্গল।
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামছুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল, সাধারন সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মুন্সীগঞ্জ, এমএইচ, ২৮মে(টাইমনিউজবিডি.কম)