হরতালকে ‘নতুনপ্রজন্ম বিধ্বংসী ও অযৌক্তিক’ আখ্যায়িত করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘২১ লাখ জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্যই জামায়াত-শিবির তিন দিন হরতাল দিয়েছে। এটি পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় আঘাত।’

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা ২০১৪ বিষয়ক এক জরুরি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

হরতাল বন্ধে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘জামায়াত-শিবির ১৯৭১ সালে হত্যা-গুম-খুন-লুটরতাজসহ মানবতাবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তারা আজ আমাদের নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত ধ্বংস করতে চায়। মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে কোর্ট এ সব ঘৃণ্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে ন্যায্য রায় দিয়েছে।’

পরীক্ষার সময় হরতাল দেয়ায় উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে সবাই জানে ১ নভেম্বর (বন্ধ হলে পরবর্তী খোলার দিন) জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়। এ বছরও আমরা তিন মাস আগে ২ নভেম্বর রবিবার পরীক্ষা শুরুর রুটিন ঘোষণা করেছি। আমাদের কোমলমতি পরীক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২১ লাখ শিক্ষার্থীর ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ঘোষিত তিন দিনের হরতাল বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সভায় পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সমন্বয় কমিটির সদস্যদের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন মন্ত্রী। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: সোহরাব হোসাইনকে আহ্বায়ক করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল বুধবার এ কমিটি গঠন করা হয়।

নাহিদ প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তাদেরও সর্বাত্মক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস করা, প্রশ্নপত্রের নামে ভুয়া সাজেশন বের করা বা ফেসবুকে প্রকাশ করাসহ যে কোনো অপতৎপরতা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

তিনি পরীক্ষার্থীদের ভুঁয়া প্রশ্নপত্রের পেছনে না ছোটার জন্য আবারও পরামর্শ দিয়েছেন।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডসমূহে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোন নম্বর ৯৫৫০৩৪১, ফ্যাক্স নম্বর ৯৫১৪১১৪।

সভায় শিক্ষাসচিব মো. নজরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব মো. সোহরাব হোসাইন ও এএস মাহমুদ, মন্ত্রণালয়েল যুগ্ম-সচিবগণ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ২ নভেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশের প্রতিবাদে বৃহস্পতি, রবি ও সোমবার দেশব্যাপী হরতাল ডেকেছে দলটি। ফলে ২ নভেম্বর রবিবারের পরীক্ষা শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ বছর সারাদেশে ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। তবে হরতালে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত বছরও হরতালের কারণে ৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ৭ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

এএইচ