আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। আজ (বৃহস্পতিবার) কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৩ সালের যেই ক্রাইম ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্টের অধীনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে সেখানে কোন রাজনৈতিক দলের বিচার করার বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই।
তবে, জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের সমঝোতার কোন সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এরপর ওই দিনই তদন্ত শুরু করেন সহকারি পুলিশ সুপার মতিউর রহমান।
এরআগে, ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি রায়ের পর্যবেক্ষণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এলে জোরালো হয় দলটির বিচারের দাবি।
২০১৩ সালের ১৫ জুলাই একটি রায়ে ট্রাইব্যুনাল-১ বলেন, 'দালিলিক প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়, গোলাম আযমের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে রাজনৈতিক দল হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মকাণ্ড চালিয়েছে একটি অপরাধী সংগঠনের মতো।'
এর আগে ট্রাইব্যুনালের আরও চারটি রায়ে পাকিস্তানি সেনাদের 'সহযোগী বাহিনী' হিসেবে উল্লেখ করা হয় দলটিকে। এসব রায়ের পর্যবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধকালীন নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানি সেনাদের পাশাপাশি দায়ী করা হয় জামায়াতকেও।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইন সংশোধনের ফলে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ব্যক্তির পাশাপাশি বিচারের বিধান তৈরি হয় সংগঠনেরও। অর্থাৎ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিচারের আওতায় আনা যাবে জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকেও।
বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে ব্যক্তি আসামিদের বিরুদ্ধে যেভাবে মামলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও মামলা হবে সেই একই পদ্ধতিতে। প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেওয়ার পরে অভিযোগ গঠনের শুনানির মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিচারিক কার্যক্রম। অভিযোগ গঠনের পরে সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা গ্রহণ করা হবে এখানেও। পরে আসবে রায়।
তবে ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম তখন বলেন, অভিযোগ আসুক, অপেক্ষা করছি। আইনগতভাবেই মোকাবিলা করা হবে আইনি বিষয়। তিনি প্রশ্ন করেন, বিধানই তো নেই, দলের শাস্তি হবে কীভাবে?
এমনই পটভূমিতে আইনমন্ত্রী বললেন, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যাবে না। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
[b]ঢাকা, ২৯ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]
রাজনীতি
ট্রাইব্যুনালের আইনে জামায়াতের বিচার করা যায় না: আইনমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এরআগে, ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।





