বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৪ দশক অতিক্রান্ত হলেও সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

ফলে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদানের স্বপ্ন আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে। তাই দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলার কোন বিকল্প নেই। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি আজ রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা   ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ‘আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল’সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইবনে কারীম আহমদ মিঠু, জামায়াত নেতা আবু ওয়াসিফ ও এইচ এম এ রহমান প্রমূখ।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও এ সরকারের আমলেই ধ্বংস করা হয়েছে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। সরকার জনগণের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সরকার জনগণের বুকের উপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে। তারা উপজেলা ও সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মহড়া দিয়েছে। চলমান ইউপি নির্বাচনেও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের প্রথম পর্যায়েই সহিংসতা, ভোট ডাকাতি, ব্যাপক জালভোট, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সহিংসতায় কমপক্ষে ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মূলত সরকারের অপরাজনীতির কাররণেই দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকশিত হয়নি। তাই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সকল সময়ের চেয়ে খারাপ পর্যায়ে। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সকল শ্রেণীর মানুষই এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। সরকার মুখে উন্নয়নের কথা বললেও উন্নয়ন হয়েছে ক্ষমতাসীনদের ভাগ্যের। সারা দেশেই চলছে দখলবাজী ও লুটপাটের মহোৎসব। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা চুরি হওয়ার মত গর্হিত ঘটনা ঘটেছে। জনতা ব্যাংকের এফডিআর আত্মসাৎসাৎ করেছ লুটেরার দল। কিন্তু সরকার এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মাসে সরকার রাজনৈতিক নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে। আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ দেশের হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে জামায়াতের অগ্রযাত্রা কোন ভাবেই রোধ করা যাবে না। তিনি আমীরে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ আটক সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

বংশাল থানা ;

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বংশাল থানার উদ্যোগে নগরীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য আজমল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আব্দুল জব্বার, মোফাজ্জল হোসেন, সাদেকবিল্লাহ, হাফেজ আসাদুল্লাহ, মনির হোসেন দিপু ও রাশেদ সিদ্দিকী প্রমূখ।

যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা;

যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানার উদ্যোগে নগরীতে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা ও দোওয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফফির। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা খন্দকার আবু ফতেহ, ইমদাদুল হক, আব্দুল জব্বার, হাবিবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন ও আলাউদ্দীন প্রমূখ।

এদিকে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রমনা থানা আজ সকালে রাজধানীর মগবাজারের শহীদ কামারুজ্জামান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও রমনা থানা আমীর ড: মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে¡ অনুষ্টিত সভায় আলোচনা রাখেন-মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য ও রমনা থানা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড:আহসান হাবিব, থানা কর্মপরিষদ সদস্য এম কাইয়ুম,আকতার হোসাইন,সাবেক ছাত্রনেতা আ:জব্বার,জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমান, সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব মু: রেজাউল করিম বলেন-আমাদের রক্তে কেনা লাল সবুজের পতাকা আজ অনিরাপদ।অনেক দামে কেনা স্বাধীনতা আজ বিবেদ-বিভক্তির কারণে হারাতে বসেছে।

আধিপত্যবাদী শক্তির দাদাগিরীর কারণে আমাদের সকল অর্জন শেষ হওয়ার উপক্রম। মানুষকে আজ কথা বলতে দেয়া হচ্ছেনা। কেড়ে নেয়া হচ্ছে ভোটাধিকার। একমাত্র ইসলামই এদেশকে রক্ষা করতে পারে ।


এআই