গুলিস্তানে ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদের সময় অস্ত্রধারী দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করে ৩ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, 'মিডিয়ায় যে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে তাদেরকে শুধু শোকজ আর বহিষ্কার নয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। এটাই প্রথম অ্যাকশন, অপেক্ষা করুন।'

এর আগে দুপুরে চারদিন আগের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার তথ্য জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

দলীয় নেতাদের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে- এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে কাদের বলেন, 'ইতোমধ্যে এর প্রমাণ কিছুটা পেয়ে গেছেন। সম্মেলনের পর এটাই প্রথম অ্যাকশন, অপেক্ষা করুন। দল করলে নিয়ম মেনে চলতে হবে। আমাদের সভানেত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে এত উন্নয়ন করে, আর আজকে কিছু কিছু লোকের খারাপ আচরণের জন্য দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেব না। যারা এতদিন শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করেছেন, আবার মাঝে মাঝে অপকর্ম করেন, দয়া করে সংশোধন হয়ে যান। সংশোধন না হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ দু-চারজন জনপ্রতিনিধির জন্য এই অর্জন ম্লান হতে দেওয়া যায় না।'

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, 'অনেক ফুলের মালা দেখেছি, অনেক পুষ্পস্তবক দেখেছি। আমরা ফুলের মালা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। ফুলের মালা বেশি দেখলে ভয় পাই।'

তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, এখনো ষড়যন্ত্র বহমান। এখনো মাঝে মাঝে মনে হয় একটি বুলেট বঙ্গবন্ধু কন্যার পিছু ছাড়ছে না। সে কারণে আমি নেতাকর্মীদের অনুরোধ করবো আর ফুলের মালার দরকার নাই। সম্মেলনের মাধ্যমেই আমরা ফুল পেয়েছি। আমরা ফুল চাই না, কর্মীদের সাথে, জনগণের সাথে ভালো আচরণ করুন।'

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, 'রাজনীতিতে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আমি পরিশ্রম করেছি, পুরস্কার পেয়েছি। কাজ করলে স্বীকৃতি পাবেন। সেটা দু'দিন আগে আর পরে। সারাজীবন দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনবছর মন্ত্রীত্বও পাইনি। আমি মাথা গরম করিনি। নেত্রীকে ছেড়ে যাইনি। ধৈর্য্য ধরেছি।’

দলে কোনো ভাঙন হবে না দাবি করে তিনি বলেন, “সম্মেলনের সময় অনেকেই বলেছে ‘সামথিং ইজ হেপেন্ড’। কী হলো, আশরাফই আমার নাম প্রস্তাব করেছে। এটাই হলো আওয়ামী লীগ। অনেকে বলে এত সুন্দর সম্মেলন, সাধারণ সম্পাদক নিয়ে কী জানি কি হয়। কিছুই হবে না।”

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমত উল্লার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জারিফ