সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে বর্তমানে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে নেই। আগে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা হয়নি। এরা এটা নতুন করে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে একলা দেশ চালানোর কৌশল নিয়েছে।
শনিবার রাতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা উপলে দলের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। কেউ কথা বললেই তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনেরা অন্যের সম্পত্তি দখল করে নিজেরা সম্পদের মালিক হচ্ছে। দেশ তো শেষ হয়ে যাচ্ছে তা বুঝতে হবে। এভাবে সব নিয়ে তারা চলে যাবে। আর আমরা শুধু চেয়ে থাকব খোলা আকাশের দিকে, তা তো হতে পারে না।
রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাতে বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বক্তব্যের শুরুতে খালেদা জিয়া বুদ্ধপূর্ণিমা উপলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সাফল্য কামনা করেন। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে তিগ্রস্ত মানুষের পাশে নেতাকর্মীদের দাঁড়ানোর কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। মহামতি গৌতম বুদ্ধের আদর্শে দেশে শান্তিপ্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহবানও রাখেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তাতে আপনারা কী দেখেছেন? এদেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ আছে বা এটাকে নির্বাচন বলবেন? কিভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন? আমরা অতীতে কখনো দেখিনি পুলিশ কিংবা সরকারি অফিসিয়ালরা ব্যালট পেপারে সিল মারে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। আর আওয়ামী লীগের লোকের অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সামনেই বিএনপির প্রার্থীদের নমিনেশন পেপার তুলতেও দিচ্ছে না, জমাও দিতে দিচ্ছে না।
খালেদা জিয়া বলেন, এখন ওরা (মতাসীন) যেমন সবার সম্পত্তি দখল করে সম্পদের মালিক হচ্ছে। সবার ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েও শুধু একলা থাকবে। কোনো দল থাকবে না। কাউকে থাকতে দেবে না। এভাবে তারা চলছে। এটা হতে পারে না। এটা গণতন্ত্র নয়।
তিনি বলেন, এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কী বলছেন, নির্বাচন করতে গেলে ট্যাংক লাগবে। এতদিনে বুঝেছেন ট্যাংক লাগবে উনি। তাহলে বুঝেন। সে জন্যই তো আমরা বলেছিলাম, এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলেও জাতীয় নির্বাচন যেটা হয়, সেটা নিরপে সরকারের অধীনে হতে হবে। সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তাহলে সেখানে সেনাবাহিনী ট্যাংক চালাতে পারে, অন্যরা তো কেউ পারে না।
তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার রকিব উদ্দীন আহমদকে ‘বোবা-কালা’ বলে নির্বাচন পরিচালনায় তার ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এই নির্বাচন কমিশনার অপদার্থ। শুধু মুখটা চলে যখনই অবস্থা খারাপ মাঝে-মধ্যে মুখটা খুলে। না হলে উনি নীরবে বোবা-কালা হয়ে থাকেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, কথা বলার অধিকার নেই। কেউ কথা বললেই সে মামলা খাবে, রাজাকার হয়ে যাবে। আর না হলে সন্ত্রাসী বানিয়ে তার ওপর অত্যাচার চালাবে। সরকার যেসব অপকর্ম ও অপশাসন চালাচ্ছে তা জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আগত সদস্যদের প্রতি আহবানও জানান তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকার হ্যাকার নয়, চুরি হয়েছে, লুট করা হয়েছে। ফিলিপাইনে ক্যাসিনোতে সেই টাকা নিয়ে হালাল করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তার ছেলের অ্যাকাউন্টে যে তিন শ’ মিলিয়ন অর্থ আছে- সে কথাটা সবাই জানেন, এটা সবাইকে বলতে হবে তো। এটা কার টাকা? জনগণের টাকা। আর যদি তার টাকা হয়, সে কিভাবে পেলো, তা বলতে হবে তো, হিসাব দিক। জবাব দিক সে কিভাবে সেই টাকা আয় করেছেন, তা হলে সেটা পরিষ্কার হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সুমঙ্গল ভিু, দয়া নন্দ ভিু, শান্তি রতি থেরসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, সাচিং প্রু জেরী, দয়া নন্দ ভিু, সুশীল বড়ুয়া, প্রথীন চন্দ্র চাকমা, সনথ তালুকদার, চন্দ্র গুপ্ত বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা রুহুল আলম চৌধুরী, গোলাম আকবর খন্দকার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, রবীন্দ্র লাল চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমবি





