এখন পর্যন্ত কোন সরকারই সংবিধানকে কার্যকর করার জন্য কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। কারণ কেউ চায় না জনগনের ভোটের অধিকার জনগনের কাছে থাকুক বলে মন্তব্য করেন বলে মন্তব্য করেছে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ।
সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত নির্বাচন কমিশন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ভবিষৎ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটারদের অধিকার তাদের নিজের হাতে না থাকলে কিয়ামত পযর্ন্ত নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না।
রউফ বলেন, আজ আমরা কারচুপির নির্বাচন নিয়ে লাফালাফি করছি, কিন্তু কোনো সরকারের আমলেই নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না যদি ভোটারদের অধিকার তাদের নিজের হাতে না থাকে।
তিনি বলেন,নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো কর্ম বুঝে কর্তা বুঝে নয়। দেশে নির্বাচন সুষ্ঠ না হওয়ার জন্য সংবিধানকে দায়ী করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
সিটি কর্পোরেশনের কারচুপির ছবিগুলো হাজার হাজার বই,সিডি ইত্যাদি কপি করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে অন্তত তারা তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
উল্লেখ্য, হলরুমের চারপাশে সদ্য শেষ হওয়া সিটি নির্বাচনের কারচুপির সচিত্র প্রামাণ্য চিত্রের ব্যানারও লাগানো ছিল।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড.জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম এই নির্বাচন কমিশনার প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করেছেন, দেখার বিষয় ছিল তাদের পরবর্তী কার্যক্রম কিন্তু সেটায় ও তারা নির্মম ভাবে ফেল করেছেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে না যাওয়া তার সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
দেশের উন্নয়ন প্রশঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, উন্নয়ন তো হবেই উন্নয়ন না হলে যে দুর্নীতি সম্ভব নয়।’
সিটি নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ করা উচিৎ ছিল মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ.ফ.ম ইউসুফ হায়দার বলেন, তাদের উচিৎ ছিল পদত্যাগ করা কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তারা সেটা না করে সরকার দলীয় সমর্থকদের সাথে তাল মিলিয়ে তোতা পাখির মতো তাদের বোল উড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সে দিন বেশি দূরে নয় বাংলাদেশের ভবিষৎ প্রজন্ম এই রকিব মার্কা নির্বাচন ও তার নাম শুনলেই থুথু ফেলবে।
আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশন অব ড্যাবের মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন,প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ





