দেশে যা কিছু ঘটছে তা সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভুড়িভোজের জন্য বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, কখন না তারা দাবি করে বসে এ দেশের মালিক তোমরা না, আমরা।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের’ দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ বাবুলের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও খায়রুল কবির খোকন, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির, এ কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা জঙ্গি তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু দেশে যাদের জঙ্গি বলে মারা হচ্ছে তাদের কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারছি না। তারা কী কায়েম করতে চায়, খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়, নাকি রেস্টুরেন্ট বা এখানে-সেখানে হামলা করা তাদের কাজ, তা জানতে পারলাম না। অথচ বলা হচ্ছে তারা জঙ্গি।
তাদের কোথায় ধরা হচ্ছে কোথায় মারা হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনি একজনকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেবেন, পরে আবার তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে বাহবা নিতে রেডিও, টেলিভিশনে প্রচার ও প্রেস ব্রিফিং করে জনগণকে বলবেন, মানুষ এ ধরনের কথায় বিশ্বাস করেনা। মানুষ এত বোকা না। কিছু লোককে কিছূদিন বোকা বানানো যায়, কিন্তু সব লোককে বোকা বানানো যায় না।
কয়জনকে মারা হয়েছে, আর কয়জন বাকি আছে ভারতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার তালিকা দিয়ে এসেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা।
গয়েশ্বর রায় বলেন, খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের জন্য নয়, সরকার প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন করতে হবে।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এখন জনমনে আতংক তৈরি হয়ে গেছে। কালো পোশাক পরা যে কাউকে পিছন থেকে গুলি করে বলতে পারে- সে জঙ্গি ছিল।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এখন যাকে তাকে জঙ্গি বানানো হচ্ছে। সরকার বলছে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আলোচনা করবে না। তাহলে যাদের বিচার করেছেন তাদের তালিকা দেন, জামায়াতের বাকিরা তো যুদ্ধাপরাধী না। তিনি বলেন, মূলত সরকার দুর্নীতি ও নির্বাচনের দাবি ধামাচাপা দিতে চাচ্ছে। কিন্তু লাভ হবে না।
খায়রুল কবির খোকন বলেন, সরকার ঘরে জঙ্গি রেখে বাইরে খুঁজছে। কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ের মালিক আওয়ামীলীগ নেতা। গুলশানে হামলাকারীদের একজন আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে। শোলাকিয়ায় হামলাকারীদের পিতাও আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে।
সভাপতির বক্তব্যে আবু নাসের রহমাতুল্লাহ বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা প্রত্যাহার নয়, সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হবে।
এমবি





