প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন।  আজ (শনিবার) সকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন শুরু হয়েছে।  দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হবে আগামীকাল রবিবার।

দুই বছর পর পর ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবারের সম্মেলন হচ্ছে চার বছর পর।  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শেখ হাসিনার উপস্থিতির পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত হয়েছেন মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন অংগ সংগঠনের শীর্ষ ব্যাক্তিরা।

তবে, সম্মেলনকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচনা হচ্ছে যে বিষয় নিয়ে তা হলো কে হবেন ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরই মধ্যে এই দুই পদে তীব্র লবিং তদবির হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য দুই শতাধিক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৮০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে, বিরুপ আবহাওয়ার মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে সম্মেলন। বর্ষাকালে আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সেভাবেই আগে থেকেই মঞ্চ, প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্মেলন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রকাশনার কাজ কয়েক দিন আগেই শেষ করা হয়েছে।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট হবে কি না সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভোটের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কাউন্সিলরদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশ থেকে আসা কাউন্সিলরদের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাত বিভাগের কাউন্সিলরদের জন্য সাতটি বুথ রাখা হবে। সেখান থেকে কাউন্সিলরদের বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করা হবে।

সকাল ১০টার পরপরই সম্মেলন শুরু হলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য শুরু করেন। আগামীকাল সকালের আগেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১০ জুলাই ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। সে সময় বদিউজ্জামান সোহাগ সভাপতি ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও তা নানা কারণে চার বছর পার করে।

এরফলে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর নেতৃত্ব প্রত্যাশী অনেক ছাত্রলীগ নেতা হতাশ। কারণ ইতোমধ্যেই তাদের বয়স ২৯ বছর পেরিয়ে গেছে।

ছাত্রলীগের পদ পেতে হলে ২৯ বছর বয়স থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।  তবে এবার বয়স বাড়িয়ে ৩০ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

কেবি