বিএনপি যে জনবিচ্ছিন্ন একটি দল সেটা পৌর নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের বক্তব্যেই সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন বলে ‍দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.হাসান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাসান ‍মাহমুদ একথা বলেন।একইসঙ্গে তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপি চেয়ারপারসনের পদ থেকে পদত্যাগেরও আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপিকে একটি গণমুখী, শক্তিশালী দল হিসেবে দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হাসান মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হাসান মাহমুদ বলেন, বিএনপি মহাসচিবের কাছে সাংবাদিক বন্ধুদের প্রশ্ন ছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা কি পেলেন ? তখন তিনি বলেছেন এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। অর্থাৎ এই বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব স্বীকার করে নিয়েছেন তারা জনবিচ্ছিন্ন একটি দলে রূপান্তরিত হয়েছে। বিএনপি এবং তার জোট যে একটি জনবিচ্ছিন্ন দল ও জোটে রূপান্তরিত হয়েছে সেটাই প্রকারান্তরে বিএনপি মহাসচিব স্বীকার করে নিয়েছেন। অতীতে মানুষকে জিম্মি করার রাজনীতি যে জনগণ গ্রহণ করেনি, সেটা যে ভুল ছিল সেটাই তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।

‘বিএনপি মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, আপনি ইলেকশন কমিশনের পদত্যাগ চাচ্ছেন এবং এই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখান করছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কিনা। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন তারা সকল নির্বাচনে অংশ নেবেন। একদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলছেন, আরেকদিকে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভবিষ্যতে সকল নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। কার্যত তিনি যে অযৌক্তিক কথা বলছেন সেটা তার বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের অজান্তেই স্বীকার করে নিয়েছেন। ’

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত দলীয় ভিত্তিতে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পৌর নির্বাচন দেশের অতীতের পৌর নির্বাচনের তুলনায় এমনকি পাশের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু হয়েছে। বাংলাদেশের অতীতের পৌর নির্বাচনে অনেক বেশি সহিংসতা হতো। পশ্চিম বাংলায় কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনের তুলনায় বাংলাদেশে বুধবার অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচন অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যেখানেই গণ্ডগোলের আভাস পাওয়া গেছে অথবা গণ্ডগোল হয়েছে সেখানেই তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পিটুনিতে আহত হয়েছেন। আমাদের দলের কাউন্সিলর প্রার্থী থেকে শুরু করে অনেকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা ব‍াহিনী সকল দলের সঙ্গে সমান আচরণ করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি জানতেন এই নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হতে যাচ্ছে। এই কারণে তাদের প্রথম থেকে প্রচেষ্টা ছিল এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, সরকারের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। ’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি গতকাল বেগম খালেদা জিয়া তার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বসেছিলেন। কেন নির্বাচনে সহিংসতা হয়নি সেজন্য তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর অনেক ক্ষোভ ঝেড়েছেন। আমি বেগম জিয়াকে অনুরোধ জানাব আপনি গতকালের নির্বাচনে বিএনপির চরম ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে নিজে পদত্যাগ করুন, দলের নেতাদের উপর ক্ষোভ ঝেড়ে কোন লাভ নেই। বরং এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে আপনি পদত্যাগ করুন এবং জঙ্গি-সন্ত্রাসী আশ্রয়ী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ সালাম উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ