হরতাল সফল করায় জামায়াত অভিনন্দন জানিয়েছে। ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে বাধাদানের প্রতিবাদ, গণবিরোধী সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবিলম্বে নির্বাচনের দাবিতে এবং অযৌক্তিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দেশব্যাপী সরকারের নাশকতার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং ২০ দলীয় জোটের গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মু্িক্তর দাবিতে ৩৬ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফল করায় এ অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

এক বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, সরকার গণআন্দোলনে দিশেহারা হয়ে এখন ষড়যন্ত্র ও দলন-পীড়নের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্র করছে। সারাদেশে আন্দোলনরত জনতার উপর দলন-পীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে অতীতের সকল নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তারা চলমান দুর্বার গণআন্দোলন দমন ও ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্যই কথিত নাশকতার অভিযোগে পুত্র শোকে শোকাহত ২০ দলীয় জোট নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করে এখন গ্রেফতারের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

ফলে জোট নেত্রীকে নিয়ে জনমনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। সরকারের জিঘাংসা ও প্রতিহিংসা থেকে কোন শ্রেণীর মানুষই রেহাই পাচ্ছেন না। তারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে ১৪ দিনের রিমান্ডে এনেছে। যাত্রাবাড়ীতে নাশকতার কথিত অভিযোগে বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়নের সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হয়েছে।

মূলত সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই গোটা দেশকেই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের জনপদ এবং কারাগারে পরিণত করেছে। কিন্তু জনগণ সরকারের কোন ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেবে না বরং যেকোন মূল্যে রুখে দেবে। তিনি ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী দলের সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার ও আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকরের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যাথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

তিনি বলেন, হতদরিদ্র জনগণের রক্ত শোষন করতেই সরকার সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়েছে। সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি হীনবল হয়ে পড়েছে। কিন্তু সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোন বাস্তসম্মত ও গ্রহনযোগ্য সমাধানের পথে অগ্রসর না হয়ে পরিকল্পিতভাবে দমন ও নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর একের পর এক চাপানো হচ্ছে অনাকাঙ্খিত ও বর্ধিত করের বোঝা। সে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে । মূলত সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের কাছে তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। তাই এই গণবিরোধী অবৈধ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন গণদুর্ভোগ বাড়বে বৈ কমবে না। তিনি সরকারকে গণবিরোধী পরিহার করে অভিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের আহবান জানান। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ গণবিস্ফোরণে রূপ নেবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার চলমান আন্দোলন দমনের জন্য ষড়যন্ত্র ও নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। জালিম সরকারের পতনের জন্য রাজপথ যখন উত্তাল তখন সরকার ভাড়াটিয়া লোকদের দিয়ে রাজপথে হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে এসবের দায়ভার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর চাপাচ্ছে। কয়েক দিন বিরতির পর আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের নেতিবাচক মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে। বিজিবি প্রধানের জনগণের বুকে গুলী চালানোর পুনরায় ঘোষণার পর র‌্যাব ডিজি একই ধরণের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। ডিএমপি কমিশনারও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন। মূলত সরকার জনতার আন্দোলন নির্মম ও নিষ্ঠুর ভাবে দমনের জন্য রাষ্ট্রীয় শক্তি ও দলীয় শক্তির অপব্যবহার করছে। ফলে জনতার প্রতিরোধ আন্দোলনে গোটা দেশই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।

৩৬ ঘন্টার হরতালের শেষ দিন এবং অনির্দিষ্টকালের হরতালের ২১তম দিনে ছাত্র-জনতা রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম, হাজারীবাগ, রমনা, শাহজাহানপুর, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী পূর্ব, যাত্রাবাড়ী পশ্চিম, শ্যামপুর, আদাবর, মোহাম্মদপুর, ও কোতয়ালীসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ষ্পটে জনতা স্বতঃস্ফূর্ত রাজপথে নেমে এসে অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফল করে ফ্যাসীবাদী ও জুলুমবাজ সরকারের প্রতি গণঅনাস্থা জানিয়েছে।

পুলিশ হরতাল ও অবরোধ চলাকালে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলী বিভিন্ন বাসাবাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তান্ডব চালিয়ে ৩০ জন, কাফরুল থেকে ১০ মেধাবী ছাত্র ও বিমানবন্দর থেকে ৩ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত গ্রেফতার করেছে। তিনি সরকারকে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ, দলন-পীড়ন পরিহার ও গ্রেফতারকৃত জোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও গণদাবি মেনে নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জোর দাবি জানান।

মাওলানা খান বলেন, গণআন্দোলনে দিশেহারা সরকারের মন্ত্রীরা এখন জনগণকেই গণধোলাইয়ের হুমকী দিতে শুরু করেছেন। হরতাল ও অবরোধে জনজীবনে কোন প্রভাব পড়েনি বলে মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা মন্তব্য করলেও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হরতাল-অবরোধের ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা বলে স্ববিরোধী মন্তব্য করেছেন। মূলত সরকার গলাবাজী, চাপাবাজী, দলন-পীড়ন, হত্যা-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে চায়।

কিন্তু তাদের সে স্বপ্নবিলাস কখনোই সফল হবে না। তিনি জোট নেত্রীসহ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার, জনতার গণতান্ত্রিক কর্মসূচীতে বাধাদান, হামলা, গুম, খুন ও অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ, গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবি এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখতে কৃষক, শ্রমিক, মজুর, শিক্ষক-ছাত্র, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, পেশাজীবী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, বিচারক, ব্যাংকার, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

এএইচ