বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দফতরে ‘সাউথ এশিয়া রিজিওনাল সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টার ইন বাংলাদেশ’ এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হবে। আমাদের খাদ্যের কোনও সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে গুদামগুলোতে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘রবি মৌসুমের শাক-সবজিসহ বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। পটল, বেগুন ছাড়াও নিচু এলাকায় যেসব শাক-সবজি ছিল সেগুলোর ক্ষতি হয়েছে। ফলে শাক সবজির দাম বাড়তে পারে।’
বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এজন্য নতুন কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমরা নতুন বীজতলা তৈরি করবো। এছাড়া চাষিদের বীজ ও সার দেওয়া হবে।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্টে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। সেজন্য সরিষা,আলু, শাক-সবজিসহ এ ধরনের রবি ফসলের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের যে অর্থ রয়েছে তা বিভিন্ন জেলায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সহায়তা দেওয়া হবে। এজন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজনে তা বাড়ানো হবে।’
বৈঠকের বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আলু সেন্টার পেরুতে রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তারা আমাদের বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অনেক সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে যা দেশের চাহিদা পূরণ করে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ঠিকমতো আলু সরবরাহ করতে পারিনি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে যে পণ্যগুলো উৎপাদন করছি সেটা আন্তর্জাতিক মানের হচ্ছে না। সেজন্য যে পণ্যের চাহিদা আছে সেগুলো উৎপাদনে যাবো আমরা। এজন্য ভারত, নেদারল্যান্ডস, পেরু থেকে ভালো জাত এনে চাষিদের দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে এসব ফসল রফতানি করা হবে।’
জেড





